Advertise

বিনোদন ডেস্ক

১০ অক্টোবর, ২০১৫ ১২:৫২

ঐশ্বরিয়ার ‘জাজবা’: নানা কারনে আলোচনার কেন্দ্রে

নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই খবরের শিরোনামে ‘জাজবা’। এটি মুক্তি পেয়েছে গতকাল শুক্রবার। সারাবিশ্বের মোট ৪০টি দেশের দর্শকরা ছবিটি দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য আর কানাডার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, নিউজিল্যান্ড, ফ্র্যান্স, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকংয়ে চলছে এর প্রদর্শনী। এমনকি সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, বোটসওয়ানা, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডে ছবিটির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানেও মুক্তি পেয়েছে এটি।

‘জাজবা’র পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত তাই অনেকটা খোশমেজাজেই আছেন। এর গল্পটা দক্ষিণ কোরীয় ছবি ‘সেভেন ডেজ’ (২০০৭) অনুপ্রাণিত। বেশ কয়েকটি কারণে এটাই নিঃসন্দেহে চলতি বছরের বহুল কাঙ্ক্ষিত ও বড় বাজেটের ছবি। যেসব কারণে ‘জাজবা’ দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, একঝলকে সেগুলো দেখে নেওয়া যাক।

ফিরলেন ঐশ্বরিয়া
পাঁচ বছর বিরতির পর ‘জাজবা’র মাধ্যমে রূপালি পর্দায় ফিরলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সর্বশেষ হৃতিক রোশনের সঙ্গে ‘গুজারিশ’ (২০০০) ছবিতে দেখা যাওয়া প্রাক্তন এই বিশ্বসুন্দরী এবার নতুনভাবে দর্শকদের সামনে হাজির হলেন। কন্যাসন্তানের (আরাধ্য) মা হওয়ার পর এটাই তার প্রথম কোনো ছবি। এতে রয়েছে তার রুদ্ধশ্বাস মারামারি ও স্টান্ট দৃশ্য।
মেয়ে আরাধ্যর জন্য পাঁচ বছর লাইট-ক্যামেরা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন অ্যাশ। ‘জাজবা’য় ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন আইনজীবী ও কন্যাসন্তানের মা অনুরাধা ভার্মা চরিত্রে, স্বামীর সঙ্গে থাকে না অনুরাধা। তার মেয়ে অপহৃত হয়। মেয়েকে মুক্ত করতে হলে ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে জড়িত এক দাগী আসামীকে ছাড়িয়ে আনতে জোর করা হয় অনুরাধাকে। সময় বেঁধে দেওয়া হয় সাতদিন। ক্রাইম থ্রিলার ধাঁচের ছবিটির গল্পে অনেক মোড় আছে।

মা হওয়ার পর ওজন বেড়ে গিয়েছিলো ঐশ্বরিয়ার। তবে ‘জাজবা’য় হালকা আর ফিটফাট শারীরিক গড়ন নিয়ে হাজির হয়ে চমকে দিলেন তিনি। পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তর মতে, ঐশ্বরিয়াই ছবিটির সত্যিকারের নায়ক।

এদিকে পাঁচ বছর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোকে প্রত্যাবর্তন মানতে রাজি নন ঐশ্বরিয়া। তার ভাষ্য, ‘এতোদিন বিরতিতে থাকা আহামরি কিছু নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, অভিনেত্রী হিসেবে যে কাজটা করছি তাতে সন্তুষ্টি পাচ্ছি কি-না। জাজবায় কাজ করে আমি তৃপ্ত। এমন চিত্রনাট্যই চেয়েছিলাম অনেকদিন ধরে।’ ক্যারিয়ারের ব্যাপারে একটুও হিসেবি নন জানিয়ে ঐশ্বরিয়া বলেছেন, ‘যখনই সুযোগ এসেছে কাজ করেছি। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে চিত্রনাট্য পছন্দ হল কি-না সেটাই ছিল আমার কাছে জরুরি। তাই হিসেব করে অভিনয় করা হয়নি আমার।’ 

ইরফান খান
কাগজে-কলমে অভিনয় যেমন, ইরফান খান সেটাই করে দেখান অনায়াসে। অভিনয়ের সব কলাকৌশল তার কাছে ডালভাত! তিনি থাকলে ছবি ভালো হতে বাধ্য! হলিউডের ছবিতেও কাজ করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ‘জাজবা’য় তাকে দেখা যাচ্ছে জোহান চরিত্রে। তিনি চাকরিচ্যুত পুলিশ ইন্সপেক্টর, তোয়াক্কা করেন না পুরনো আইনকানুনের। ছবিটিতে নিজের বেশভূষা নিয়ে নিরীক্ষা করেছেন ইরফান। গায়ে জড়িয়েছেন লেদারের জ্যাকেট, দৃষ্টিতে রেখেছেন হিমশীতল চাহনি, মুখে ব্যাঙ্গময় সংলাপ- সব মিলিয়ে ইরফান এখানেও অনবদ্য।

জুটিতে ঐশ্বরিয়া-ইরফান
চলতি বছরের শুরুর দিকে সুজিত সরকারের ‘পিকু’ ছবিতে ইরফানের সঙ্গে দীপিকার নতুন রসায়ন দেখেছে দর্শকরা। একইভাবে ‘জাজবা’য় একেবারে তরতাজা জুটি পাওয়া গেলো। এবার ইরফানের সঙ্গে আছেন ঐশ্বরিয়া। প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করলেন তারা। তাদের রসায়ন দেখতে দর্শকরা মুখিয়ে ছিলেন বলা যায়। যদিও গল্পে তাদের সম্পর্কটা প্রেমের নয়, শেষপ্রান্তে গিয়ে অবশ্য এই সম্পর্ক মোড় নিতে থাকে অন্যরকম ভালোলাগার দিকে।  
তারার মেলা
ঐশ্বরিয়া ও ইরফানের পাশাপাশি ‘জাজবা’য় অভিনয় করেছেন জ্যাকি শ্রফ, অনুপম খের, শাবানা আজমি, অতুল কুলকার্নি, অভিমন্যু সিং, চন্দন রায় স্যানাল। প্রত্যেকেই দারুণ অভিনয় করেন। এ ছাড়া আছেন শক্তি কাপুরের ছেলে সিদ্ধান্ত কাপুর। ভারতীয় বংশোদ্ভুত কানাডিয়ান অভিনেত্রী প্রিয়া ব্যানার্জি আর ‘এক থি দায়া’র শিশুশিল্পী সারা অর্জুনকেও দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ছবিটাতে নামি-দামি সব চরিত্রের সম্মিলন ঘটনা হয়েছে। বলিউডে বহু বছর একই ছবিতে অভিনয়শিল্পীদের এমন মিছিল দেখা যায়নি।

পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত
এ ছবির মাধ্যমে দুই বছরেরও বেশি সময় পর পরিচালকের আসনে বসলেন সঞ্জয় গুপ্ত। সর্বশেষ ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াদালা’ পরিচালনা করেছিলেন তিনি। বক্স অফিসে সাফল্যও পেয়েছিলো ওই ছবি। সঞ্জয় গুপ্ত সচরাচর মারধরে ভরপুর ছবি বানান, এবার তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরীদের মধ্যে অন্যতম ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে কাজ করলেন। ‘জাজবা’য় আগে করেননি এমন কিছু মারামারির দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে তাকে।

মজার বিষয় হলো, অভিষেক বচ্চনকে নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিলো সঞ্জয় গুপ্তর। তিনি বিদেশি একটি ছবির স্বত্ত্ব কেনার ব্যাপারে জুনিয়র বচ্চনের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। গল্পটা অভিষেকের পছন্দ হয়। এরপর মূল নায়িকার চরিত্রে কাকে নেওয়া হবে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। সঞ্জয় বলে বসেন ঐশ্বরিয়ার কথা। এক সপ্তাহ পর সঞ্জয়কে ফোন করে অভিষেক জানান, অ্যাশ ছবিটা করছেন। সেটাই হলো ‘জাজবা’।

ভিন্ন স্বদে গান
‘জাজবা’র গানগুলো ভালো সাড়া ফেলেছে, সমাদৃত হয়েছে বিভিন্ন বয়সী শ্রোতাদের মধ্যে। শুধু অভিনয় নয়, ছবিটির জন্য গানও গেয়েছেন ঐশ্বরিয়া। এর মাধ্যমে গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ হলো তার। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, এ ছবির কোনো গানে নাচ নেই। বিশ্বাসযোগ্যতা আর বাস্তবতার আবহ রাখতেই এ সিদ্ধান্ত।
 
কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পোস্টার উন্মোচন
‘জাজবা’র প্রথম পোস্টার উন্মোচন করা হয় ৬৮তম কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। এই মর্যাদাসম্পন্ন আয়োজনে বিখ্যাত কয়েকজন তারকার উপস্থিতিতে একটি দৃশ্যও দেখানো হয়। ফলে শুরুতেই আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়ে যায় ছবিটি।
সালমান খানের ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবির পর পাকিস্তানে বলিউডের নতুন ছবি হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে ঐশ্বরিয়ার ‘জাজবা’। একসময় সালমান ও ঐশ্বরিয়ার মধ্যে মধুর আর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিলো।

‘জাজবা’ ছবির মাধ্যমে ঐশ্বরিয়া পারিশ্রমিকের পাশাপাশি লভ্যাংশও পাচ্ছেন। অর্থাৎ তিনি এর সহ-প্রযোজকও। অবশ্য এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা আমার অফিসে আসুন। তারপর এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।’ তবে পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তর মতে, ‘সব সাফল্যই ভাগ করে নেওয়া উচিত।’

‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ছবির কাজ করার সময় শাহরুখ খানের কাছে অভিষেক বচ্চন বায়না ধরে রেখেছেন, ‘জাজবা’র প্রথম কপি তাকেই দেখতে হবে। এরপর বলিউড বাদশাকে তার নিরপেক্ষ মতামত জানানোরও অনুরোধ করেছেন তিনি। শাহরুখকে নাকি মুক্তির আগেই ছবিটির ট্রেলার দেখিয়েছিলেন অভিষেক।

কিছুদিন আগে এক মাসের প্যারোলে কারাগার থেকে ছুটি পেয়েছিলেন সঞ্জয় দত্ত। তখন কাছের বন্ধু সঞ্জয় গুপ্তর ‘জাজবা’ ছবির শেষ দিনের শুটিং দেখতে যান বলিউডের এই অভিনেতা। সঞ্জয় তার টুইটারে বলেছিলেন, ‘আট বছর পর সঞ্জু আমার সেটে এলো। সময়, জীবন ও ভাগ্য আমাদের আলাদা করতে পারেনি।’ ওইদিন আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদেছেন ঐশ্বরিয়া।

‘জাজবা’র কাজ চলাকালে ঐশ্বরিয়ার কন্যা আরাধ্য অসুস্থ ছিলো। তাকে নিয়েই শুটিং করেছেন তিনি। পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তর একদিন জানান, রাত তখন তিনটা। শুটিং চলছে। হঠাৎ একজন এসে খবর দেয় আরাধ্য বমি করছে। তিনি শুটিং বন্ধ করে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু অ্যাশ তা মানতে চাননি। মেয়েকে ওষুধ খাইয়ে এসে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কাজের প্রতি তার আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হয়েছে সবাই। আউটডোর শুটিংয়ে গেলে সবসময় আরাধ্যকে সঙ্গে নিয়ে যান ঐশ্বরিয়া। ‘জাজবা’র আউটডোরে রাতে মেকআপ ভ্যানে ঘুমিয়েছে সে। ‌তার জন্য ঐশ্বরিয়া একাধারে মা, বাবা, চিকিৎসক, বুয়া, নার্স, সবই!    

ট্রেলারেই রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার জন্ম দিয়েছিলো ছবিটি। তবে এতে সবুজ রঙের ব্যবহার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কারণ ছোট পর্দায় রঙের প্রভাব নিয়ে ভাবনা ছিলো না। পরে পরিচালককে রঙ বদলাতে হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত