২৫ অক্টোবর, ২০১৫ ২০:২৪
ইরাক যুদ্ধের ভুলের কারণে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের সম্পর্ক আছে বলেও মনে করছেন টনি ব্লেয়ার।
বিবিসি জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারে ব্লেয়ার বলেন, আমাদের যারা সাদ্দামকে উৎখাত করেছিল আজকের ইরাক পরিস্থিতির জন্য তাদের কিছু না কিছু দায় আছে।
তবে একইসঙ্গে ইরাকে আগ্রাসনের পক্ষ সমর্থন করেও তিনি বলেন, সাদ্দামের পতন ঘটানোর জন্য ক্ষমা চাওয়া কঠিন। তাছাড়া, ওই আগ্রাসন চালানো না হলে ইরাক আজ সিরিয়ার মতো গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হতে পারত।
সাক্ষাৎকারে ব্লেয়ার ইরাকের তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের পতনের জন্য ক্ষমা না চাইলেও দেশটিতে আগ্রাসনের কয়েকটি বিষয় নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।
ব্লেয়ার বলেন, সাদ্দামের পতন নিয়ে তিনি দুঃখিত নন, তবে ইরাক আগ্রাসনের সময় পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভুল এবং পরিকল্পনার ভুলের জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
ইরাক যুদ্ধই সেদেশে এবং সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর উত্থানের প্রধান কারণ ছিল কি-না- এ প্রসঙ্গে ব্লেয়ার বলেন, “এর মধ্যে সত্যের উপাদান তো আছেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলাম, আপনি বলতে পারেন না, ২০১৫ সালের পরিস্থিতির জন্য তাদের কোনো দায় নেই।”
কিন্তু একইসঙ্গে তিনি বলেন, “২০১১ সালে আরব দেশগুলোতে শুরু হওয়া আন্দোলনও আজকের ইরাক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে এ বিষয়টিও উপলব্ধি করা জরুরি।”
নিজের দৃষ্টিকোণ ব্যাখ্যা করে ব্লেয়ার বলেন, "যুদ্ধের পর ইরাকে কোয়ালিশন বাহিনী ইরাকে একটি ব্যাপক -ভিত্তিক সরকার গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছিল।"
"কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে ইরাকে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল অবস্থা আবারও ক্ষুন্ন হয় তৎকালীন ইরাক সরকারের সাম্প্রদায়িক নীতি এবং আরব বসন্তের প্রভাবের কারণে।"
ব্লেয়ার বলেন, আইএস ওই সময় ইরাক থেকে সিরিয়ায় চলে যায় এবং সেখানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর তারা আবার ইরাকে ফিরে আসে।
"তারা যত বেশি সম্ভব নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করার চেষ্টা করছে এবং দেশের অগ্রগতি ব্যাহত করছে।”
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ২০০৯ সালে স্যার জন চিলকোটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেন এবং ইরাক যুদ্ধ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই সময় এক বছরের মধ্যে তদন্ত শেষ করার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছিলেন।
যদিও এরই মধ্যে ছয় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত চিলকোটের দীর্ঘ বিলম্বিত তদন্ত প্রতিবেদন শেষ হয়েছে। যদিও ওই প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
একটি সূত্র জানায়, ৩ নভেম্বরের আগে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সময় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে চিঠি লিখতে পারেন চিলকোট।
অনেকের যুক্তি, চিলকোটের প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে ব্লেয়ারকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে। তাই এ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ওই যুদ্ধ নিয়ে ব্লেয়ার তার নিজের ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চাইছেন।
টুইটারে স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী নিকলা স্টুর্জেঅন বলেন, "ব্লেয়ারের স্পিন অপারশন শুরু, যদিও দেশ এখনও সত্যের অপেক্ষায় রয়েছে। চিলকোটের প্রতিবেদন দিতে দেরি হওয়া কেলেঙ্কারি ছাড়া আর কিছু নয়।"
যদিও ব্লেয়ারের কার্যালয় থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে তার মুখপাত্র বলেন, "(ইরাক যুদ্ধ নিয়ে) গোয়েন্দাদের ভুল তথ্য এবং পরিকল্পনায় ত্রুটির কারণে টনি ব্লেয়ার সবসময়ই ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তিনি সবসময় এও বলেছেন এবং আবারও এখানে বলছেন, সাদ্দামকে সরিয়ে দেয়া ভুল ছিল এটা তিনি মনে করেন না।"
"সাদ্দামকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই আইএসআইএস'র উত্থান হয়েছে এও তিনি বলেননি। মনে রাখতে হবে, ২০০৮ সালের শেষ দিকে যখন আল-কায়দা দুর্বল হয়ে পড়ছিল তখন সবেমাত্র আইএসআইএস'র নাম শোনা যাচ্ছিল।"
আপনার মন্তব্য