২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৯
বাংলাদেশ থেকে 'বাধ্য হয়ে' ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ভারতের নতুন তিনটি ফৌজদারি আইনের ওপর শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় অমিত শাহ জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর অধীনে নাগরিকত্বের আবেদনগুলো যাচাই ও চূড়ান্ত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আটটি জেলার কালেক্টরদের ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অমিত শাহ বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থী ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের সবাইকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে এখানে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।'
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী—বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা যোগ্য হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিষ্টান অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।
অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে সরকার 'শনাক্ত, বাতিল এবং বহিষ্কার' (ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট) নীতি অনুসরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, 'আমি বাংলার মানুষকে আবারও প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে, প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হবে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত করা হবে।'
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে হওয়া অভিবাসন ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাজনৈতিক ইস্যু। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রতিনিয়ত রাজ্যে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সিএএ বাস্তবায়নকে তাদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, তিনি বরাবরই সিএএ বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছিলেন। মমতার উদ্দেশে তিনি বলেন, 'মমতা দিদি, আপনি এটি মেনে নেননি, কিন্তু আপনার সরকারও চলে গেছে এবং আপনিও বিদায় নিয়েছেন। এখন এখানে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।'
অমিত শাহের এই মন্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গে সিএএ বাস্তবায়ন, শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন—'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা' (বিএনএস), 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা' (বিএনএসএস) এবং 'ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম' (বিএসএ)-এর ওপর আয়োজিত প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই শিলিগুড়ি সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আপনার মন্তব্য