১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ১২:৫০
বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পি লাহিড়ী শুধু তার গানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন না, তিনি 'গোল্ড ম্যান' হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি গলায় অনেকগুলো সোনার চেন পরতেন। ব্যতিক্রমী এই বিষয়টি সকলের নজর কাড়ত এবং সর্বত্র বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতো।
অনেকের ধারণা, তিনি লোক দেখানোর জন্য একসঙ্গে এতগুলো সোনার চেন পরতেন। কিন্তু শিল্পী বিষয়টির নেপথ্যে ভিন্ন একটি কারণ প্রকাশ করেছিলেন।
বাপ্পি লাহিড়ী এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি লোক দেখানোর জন্য এতগুলো সোনা পরেন না। কিন্তু তিনি আমেরিকান পপ তারকা এলভিস প্রিসলি দ্বারা খুব অনুপ্রাণিত ছিলেন। এলভিস তার কনসার্টে বেশ কয়েকটি সোনার চেন পরতেন।
বাপ্পি বলেন, যখন আমি এলভিসের দিকে তাকাতাম, ভাবতাম বিখ্যাত হয়ে গেলে আমি নিজেকে এলভিসের মতোই সাজাব। একই সঙ্গে তিনি আরও বিশ্বাস করতেন, সোনা পরা তার জন্য একটি সৌভ্যাগ্যের বিষয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ভারতে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী। নির্বাচন কমিশনকে হলফনামায় তিনি জানিয়েছিলেন, ৭৫৪ গ্রাম সোনা এবং ৪ দশমিক ৬২ কেজি রুপার গয়না রয়েছে তার কাছে।
২০১৪ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, তার সোনার গয়নার বাজারমূল্য ৪০ লাখ টাকা। তার রুপার গয়নার বাজারমূল্য ছিল দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। মোট ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ছিল তার।
তবে গেল আট বছরে যে তার গয়না ও সম্পদের পরিমাণ অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল, তা বলা বাহুল্য। বাপ্পি লাহিড়ী ৬৯ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৭০ থেকে ৮০-এর দশকে হিন্দি ছায়াছবির জগতে অন্যতম জনপ্রিয় নাম বাপ্পি লাহিড়ী। হিন্দিতে ‘ডিস্কো ডান্সার’, ‘চলতে চলতে’, ‘শরাবি’, বাংলায় অমর সঙ্গী, আশা ও ভালোবাসা, আমার তুমি, অমর প্রেম প্রভৃতি ছবিতে সুর দিয়েছেন। গেয়েছেন একাধিক গান। ২০২০ সালে তার শেষ গান ‘বাগি-৩’ এর জন্য। কিশোর কুমার ছিলেন বাপ্পির সম্পর্কে মামা। বাবা অপরেশ লাহিড়ি ও মা বাঁশরী লাহিড়ি দু’জনেই সংগীত জগতের মানুষ। ফলে একমাত্র সন্তান বাপ্পি ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। মা-বাবার কাছেই পান প্রথম গানের তালিম।
১৯৫২ সালের ২৭ নভেম্বর জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাপ্পি। তারপর দীর্ঘদিন বাংলা ও হিন্দি ছবির গান গেয়েছেন, সুর দিয়েছেন। প্রচুর সোনার গয়না পরতে ভালোবাসতেন। ছিল গায়কির নিজস্ব কায়দা, যা তাকে হিন্দি ছবির জগতে অনন্য পরিচিতি দিয়েছিল।
আপনার মন্তব্য