২৪ মার্চ, ২০২২ ১১:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাডেলিন অলব্রাইট মারা গেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ মার্চ) তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
সিএনএন জানিয়েছে, মেডেলিন অলব্রাইটের মৃত্যুর বিষয়টি ইমেইল করে নিশ্চিত করেছে তারই প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক কৌশল বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অলব্রাইট স্টোনব্রিজ গ্রুপ।
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মেডেলিন অলব্রাইট ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মুত্যুকালে তার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব তার পাশেই উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা একজন মমতাময়ী মা, একজন প্রিয় নানি/দাদি, বোন ও একজন ভাল বন্ধু হারালাম। সেই সঙ্গে হারালাম গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের একজন নিরলস সেবককে।’
মেডেলিন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ১৯৯৩ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পরই ক্লিনটন তাকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন।
এর তিন বছর পর ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ও ৬৪তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত হন মেডেলিন। এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত একটানা ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেন।
দায়িত্ব পালনের সময় তাকে প্রায়ই ‘গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন’ হিসাবে উল্লেখ করা হত। তিনি কসভোয় জাতিগত দমন অভিযান বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
শীতল যুদ্ধ পরবর্তী পশ্চিমের পররাষ্ট্রনীতি অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রাখেন মেডেলিন। তার হাত ধরে অনেকটা বিস্তৃত হয় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো।
১৯৩৭ সালে তৎকালীন চেকস্লোভাকিয়ার প্রাগে জন্ম নেওয়া অলব্রাইটের বাবা ছিলেন একজন কূটনীতিক। ১৯৩৯ সালে নাৎসিরা চেকস্লোভাকিয়া দখলের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন।
মেডেলিন অলব্রাইট ১৯৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান তিনি।
ডেমক্র্যাট নেতা জিমি কার্টার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হোয়াইট হাউসে কাজ শুরু করেন মেডেলিন। পরে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন।
বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১২ সালে মেডেলিনকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘মেডেল অব ফ্রিডমে’ ভূষিত করা হয়।
মেডেলিন অলব্রাইটের মাধ্যমে নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই পথ ধরে পরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন কন্ডোলিজা রাইস ও হিলারি ক্লিনটন।
আপনার মন্তব্য