সিলেটটুডে ডেস্ক

২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ১২:৩৯

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু, দুই পক্ষের দুশতাধিক সেনা নিহত

পাকিস্তান সীমান্তে হামলা চালিয়ে সেনাদের হত্যা এবং কয়েক জন সেনাকে অপহরণের জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করেছে দেশটি।

এ অপারেশনে পাকিস্তান বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর গোলাবারুদের একটি বড় ডিপো ছাড়া কয়েক স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহতের শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, রাত ৩ টা ৪৫ মিনিট থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পিএএফ (বিমানবাহিনী) এবং স্থলবাহিনী বা আর্মি। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পাকিস্থানের বিমান বাহিনীর (পিএএফ) হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩৩ জন আফগান সেনা এবং আহত হয়েছেন আরও ২ শতাধিক।

পাশাপাশি কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখল করেছে পাকিস্তানের আর্মি।

পিএএফের বোমাবর্ষণে ধ্বংস হওয়া আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি বন্দুক ও সাঁজোয়া যান রয়েছে বলে এক্সবার্তায় জানিয়েছেন মোশাররফ জাইদি।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার আফগানিস্তানের নানগারহার এবং পাকতিয়া প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হয়েছিলেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। সংক্ষিপ্ত সেই অভিযানের পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের তালেবানপন্থি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছিল এবং যারা নিহত হয়েছে— তারা সবাই টিটিপির যোদ্ধা।

তবে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার পাল্টা দাবি করেছিল, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। তার পরেই তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, “এর বদলা আমরা নেবো।”

বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনে অবস্থিত পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে অপহরণ করে আফগান সেনারা। এর জবাবে শুক্রবার ভোরে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান।

যুদ্ধ ঘোষণা : পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন।

শুক্রবার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে (গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) খাজা মোহাম্মদ আসিফ পোস্টে লেখেন, পাকিস্তান সরাসরি ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও লেখেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ।’

এদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সকালে এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ব্যাপক ও চূড়ান্ত।’

ইতিমধ্যে, কাবুলে আল–জাজিরার সংবাদদাতা নাসের শাদিদ জানান, আজ স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে কাবুলে বোমা ফেলেছে পাকিস্তানি বাহিনী। পরে আবারও বোমা ফেলা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানের ৫৫ সেনাকে হত্যার দাবি আফগানিস্তানের : সীমান্ত সংঘাতে পাকিস্তানের ৫৫ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে আফগানিস্তান। এছাড়া কয়েকজনকে আটকের দাবিও করেছে তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন পোস্টের বিরুদ্ধে পরিচালিত পাল্টা অভিযান শেষ হয়েছে। সেনাপ্রধান ফাসিহউদ্দিন ফিতরাতের নির্দেশে স্থানীয় সময় রাত ১২টায় অভিযান সমাপ্ত করা হয়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অভিযানে পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আফগান বাহিনী কয়েকশ হালকা ও ভারী অস্ত্র জব্দ করেছে এবং কয়েকজন সেনাকে জীবিত আটক করেছে।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানের সময় পাকিস্তান বাহিনীর দুটি সদরদপ্তর ও ১৯টি চেকপোস্ট দখল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সংঘর্ষে আটজন আফগান সেনা নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব দিতেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

অন্যদিকে, চলমান সংঘর্ষে আফগান তালেবানের ৭২ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান। অভিযানে পাকিস্তানের দুই নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত