সিলেটটুডে ডেস্ক

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭

বাংলাদেশ–ফ্রান্সের মতো ‘সহিংসতা–বিশৃঙ্খলা’য় ভারতে রেজিম চেঞ্জ হবে না: আরএসএস প্রধান

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগেন দাবিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের দাবি পাল্টা দাবির মধ্যে এবার মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। আজ মঙ্গলবার সকালে বার্ষিক বিজয়া দশমীর ভাষণ দিতে গিয়ে সাম্প্রতিক এই ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ভাগবত বলেন, ফ্রান্স, আলবেনিয়া এবং সম্প্রতি বাংলাদেশ ও নেপালে যে ধরণের ‘সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা’ দেখা গেছে, ভারতেও ঠিক তেমনই কিছু ঘটানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এই ধরনের চেষ্টা ভারতে সফল হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।

চলমান আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে আরএসএস প্রধান বলেন, ‘পশ্চিমে এক বিশাল ঝড় বয়ে গেছে। ফ্রান্স, বাংলাদেশ এবং নেপালে কী ঘটেছে তা আমরা দেখেছি। ভারতেও রেজিম চেঞ্জ বা ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর মতো একই ধরনের অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে ভারতে কোনো সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) হবে না। কারণ ভারত আজ এক দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং দেশের সমাজের সমষ্টিগত শক্তি বা ‘পুরুষার্থ’ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন ও বিক্ষোভের প্রাসঙ্গিকতা স্বীকার করেন মোহন ভাগবত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমস্যার সমাধান খোঁজা, সমাজে শত্রুতা বা বিভেদ সৃষ্টি করা নয়। তিনি বলেন, ‘সমস্যা আসা স্বাভাবিক এবং তা থেকে আন্দোলন গড়ে উঠতেই পারে। তবে এই আন্দোলনগুলোর প্রাথমিক ও প্রধান উদ্দেশ্য হতে হবে নিরসন বা সমাধান। আমাদের কোনো কাজ বা পদক্ষেপে যেন সমাজে বিদ্বেষ ছড়িয়ে না পড়ে এবং আন্দোলনের ক্ষেত্রে শালীনতা ও সঠিক নিয়মনীতির সীমা (‘মর্যাদা’) অবশ্যই রক্ষা করা উচিত।’

রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট করেন, বিক্ষোভ বা আন্দোলন কেবল ভোটের রাজনীতি কিংবা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের অস্ত্র হওয়া উচিত নয়। সমাজে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘ভোটের লোভ বা সস্তা জনপ্রিয়তার উদ্দেশ্যে এসব প্রচেষ্টা চালানো অনুচিত। শুধু আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসে না; প্রকৃত সমাধান বেরিয়ে আসে সমাজের অভ্যন্তরীণ মেলবন্ধন, সংলাপ ও পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়েই।’

এর পাশাপাশি দেশের ভেতরে অসন্তোষ ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে কাজ করা নানা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিম হওয়ার অনুভূতি উসকে দিয়ে অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য নানাবিধ শক্তি সক্রিয় রয়েছে। বিভ্রান্তি ও বিভেদ সৃষ্টির এসব চক্রান্তের ফাঁদে যেন সাধারণ মানুষ না পড়ে, সে ব্যাপারে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।’

ভাষণে সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ভারতের বৈচিত্র্য রক্ষার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন মোহন ভাগবত। অপপ্রচারের হাত থেকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাঁচানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা থেকে যে বুদ্ধিভিত্তিক বিভ্রান্তির জন্ম দেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে আমাদের সতর্ক হতে হবে। যেকোনো মূল্যে নিজেদের পারস্পরিক সদ্ভাব রক্ষা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তেজিত বা প্ররোচিত হওয়া যাবে না। ভারতকে বিশ্বগুরুর আসনে অধিষ্ঠিত করার যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা আমাদের রয়েছে, তাকে হৃদয়ে ধারণ করেই সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে।’

ভাষণে ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের মূলমন্ত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত অহংকার, অন্য ধর্ম বা উপাসনা পদ্ধতি সম্পর্কে মনের ভুল ধারণা এবং বৈচিত্র্যকে বিচ্ছিন্নতা হিসেবে দেখার মানসিকতা সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে। ভারতের প্রতি ভক্তি, আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি গর্ব এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা—এই তিন বন্ধনকে মনে-প্রাণে ধারণ করেই দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যেতে হবে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত