২২ মার্চ, ২০১৫ ০২:৪৮
সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ হয়ে ওঠা সাইবার ক্রাইমের বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মনিকা লিউনস্কি।
মনিকা বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যাঁদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হয় তিনি তাঁদের মধ্যে প্রথম দিকের। খবর সূত্র: বিবিসি।
প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাবেক প্রণয়সঙ্গী মনিকা বলেন, তখন ফেসবুক টুইটার কিংবা ইনস্ট্রাগ্রাম ছিল না। কিন্তু গালগল্প সংবাদ ও বিনোদনভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলোর কমেন্ট সেকশন ও ই-মেইলের মাধ্যমে সেগুলো ছড়িয়েছিল।
১৯৯৮ সালের দিকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ইন্টার্ন লিউনস্কির সম্পর্ক নিয়ে দুনিয়াজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
অনলাইনে সাইবার নিপীড়ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গত দশ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো জনসমক্ষে নিজের অতীত নিয়ে মুখ খুললেন লিউনস্কি।
কানাডার ভ্যানকুভারে টেড (টেকনোলজি, এন্টারটেইনমেন্ট ও ডিজাইন) বৃহষ্পতিবার ‘জাস্ট অ্যান্ড আনজাস্ট’ শিরোনামের এক সেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মনিকা লিউনস্কি সাইবার নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। সম্মেলনে লিউনস্কির বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে মুহুর্মুহু করতালিসহ দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান দর্শকরা।
২০০৫ সালের পর জনজীবন থেকে এক প্রকার নির্বাসিত জীবনযাপন করছিলেন লিউনস্কি। প্রায় এক দশকের নীরবতার পর গত বছরের অক্টোবরে ‘ফোর্বস আন্ডার থার্টি’ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো নিজের অতীত জীবনের বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। এরপর ভ্যানকুভারের টেড সম্মেলনই লিউনস্কির জন্য জন পরিসরে বড় উপস্থিতি।
‘আমি ৪০ বছর পেরোনো একমাত্র মানুষ যে ২২ বছর বয়সে ফিরে যেতে চায় না’ বলে নিজেকে নিয়ে কৌতুক করে বক্তব্য শুরু করেন লিউনস্কি। তিনি বলেন, ‘২২ বছর বয়সে আমি আমার বসের প্রেমে পড়েছিলাম। ২৪ বছর বয়সে আমি তার ধ্বংসাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হয়েছি।’
ইন্টারনেট তাঁর ব্যক্তিগত লজ্জাকে ভয়ংকর পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল বলে জানান লিউনস্কি।
তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালের দিকে ক্লিনটনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনি পরিসর ও গণমাধ্যমে যে ঝড় উঠেছিল তা এর আগে আর কখনো দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ‘আর এসবই আপনাদের সবার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল ডিজিটাল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।’
১৯৯৮ সালের দিকে এখনকার মতো অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম না থাকলেও কালো টুপি (ব্যারেট) পরিহিত মনিকা লিউনস্কির ছবি অনলাইনে ভাইরাল আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। ক্লিনটন-মনিকা কেলেঙ্কারি নিয়ে অনলাইনে নানা গণমাধ্যমের অগণিত প্রতিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েব পোর্টালে বিস্তর লেখা-লেখির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছিল নানা আদি-রসাত্মক কৌতুক। দুনিয়াজুড়ে ইমেইলে ছড়িয়ে গিয়েছিল ক্লিনটন-মনিকা কেলেঙ্কারির খবর।
সে সময়ের কথা স্মরণ করে লিউনস্কি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি থেকে রাতারাতি আমি দুনিয়াজুড়ে জনসমক্ষে নিপীড়িত এক জন-ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলাম। আমাকে যৌনাবেদন ছড়ানো মেয়েমানুষ, মেধাহীন শরীরসর্বস্ব নারী, ও বেশ্যা বলে ডাকা শুরু হলো। পাথর ছোঁড়ার মানসিকতা সম্পন্ন লোকে ভরা ছিল পুরো ভাচুর্য়াল দুনিয়া।’
মনিকা লিউনস্কি বলেন, প্রযুক্তি এখন লজ্জা বা বিব্রত হওয়ার বিষয়টাকে ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘একসময় এসব কেবল নিজের পরিবার, নিজের স্কুল, নিজের গ্রাম বা মহল্লায় সীমিত ছিল কিন্তু এটা এখন পুরো অনলাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। যত বেশি লজ্জা, তত বেশি ক্লিক এবং তত বেশি বিজ্ঞাপনের ডলার। আমরা মানুষের দুর্দশা নিয়ে পয়সা বানাচ্ছি।’
আপনার মন্তব্য