আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ মার্চ, ২০১৫ ০৩:০০

রাশিয়াকে ঘিরে ফেলছে আমেরিকা-ন্যাটো

বাল্টিক দেশগুলোতে সামরিক মহড়া : উস্কে দিতে পারে উত্তেজনা

সামরিক শক্তির মাধ্যমে রাশিয়াকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলতে শুরু করেছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এবং আমেরিকা। এরই মধ্যে ইউরোপের বাল্টিক সাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে ব্যাপক সামরিক মহড়াও শুরু করেছে ন্যাটো। একই সঙ্গে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে লাইন অব ট্রুপস বা 'সেনাদের সারি' গড়ে তুলছে।

ইউক্রেনে সংকটের মধ্যে ন্যাটোর এই সেনা মোতায়েন ও মহড়ার বিষয়টি রাশিয়ার ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরো উস্কে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ইউক্রেন সরকারকে অবিলম্বে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে রাশিয়া। সংবাদসূত্র : প্রেসটিভি, আরটি।

রুশ সংবাদ সংস্থা 'আরটি' শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, গত দুই মাসে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুনিয়ায় হাজার হাজার আমেরিকান সেনা ও শত শত ট্যাঙ্ক মোতায়েন করা হয়েছে। 'আন্টালান্টিক রিজলভ' নামে একটি সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর এ রকম সাজ সাজ রব পড়ে গেছে।

এছাড়া গত মাসেই রুশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে 'নারভা' নামে একটি স্থানে ১৪০টি ন্যাটো যানবাহন এবং এক হাজার ৪০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে সংঘর্ষস্থল ইউক্রেনে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভের জন্য ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে ব্রিটেন।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ন্যাটোর সামরিক ঘাঁটির অবস্থানের ব্যাপারে কয়েক দশক ধরেই রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর বিরোধ চলছে। কিন্তু গত বছর ইউক্রেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি ব্যাপক তীব্রতা লাভ করে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পূর্ব ইউরোপে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে রাশিয়ার 'আগ্রাসন' থেকে রক্ষা করার জন্য ন্যাটো কয়েক হাজার সদস্যের বাহিনী তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানান সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন।

জানানো হয়, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনাসদস্য নিয়েই এই ভ্রাম্যমাণ বাহিনীটি গঠন করা হবে। ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত ন্যাটো-রাশিয়া চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব এবং মধ্য ইউরোপে ন্যাটোর কোনো স্থায়ী ঘাঁটি থাকতে পারবে না। রাসমুসেনের মতে, এই বাহিনীকে তাই ভ্রাম্যমাণ বাহিনী হিসেবেই গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা হালকাভাবে ভ্রমণ করে ভারি মাপের আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এর বিপরীতে রাশিয়াও নিজেদের সীমান্তে সেনা সমাবেশ বাড়াতে শুরু করে। এছাড়া চলতি বছর রুশ রণনীতিও ঢেলে সাজানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তার সমর্থকরা সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে। দেশটির রুশভাষী পূর্বাঞ্চলের শহরগুলো দখল নেয় রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। অন্যদিকে তাদের হটাতে ইউক্রেন সরকার সামরিক অভিযান শুরু করে। ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, রাশিয়া বিদ্রোহীদের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত