ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

২১ এপ্রিল, ২০১৫ ০১:০০

ভূমধ্যসাগরে জাহাজডুবি: চাপের মুখে ইইউ

ভূমধ্যসাগরে ইতালির ল্যাম্পেডুসা দ্বীপের কাছে লিবিয়া উপকূলে ৭শ’ অবৈধ অভিবাসী নিয়ে নৌকাডুবির পর ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) আরো বেশি করে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি। খবর সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

এ সপ্তাহে ইইউ নেতাদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন তিনি। এদিকে নৌকাডুবির ঘটনায় লুক্সেমবার্গে সোমবারের বৈঠকে এ বিষয়ে জরুরি আলোচনা আহ্বান করেছেন ইইউ নেতারা।

ভূমধ্যসাগরে প্রতিদিনই এমন ব্যাপকহারে মানুষ মারা যাওয়ার মুখে আমরা নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকতে পারি না বলে মন্তব্য করেন রেনজি। তিনি বলেন, মানব পাচার এ মহাদেশে মহামারীর আকার ধারণ করেছে এবং এ অঞ্চলে সংহতির খুব অভাব বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি লিবিয়াকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, শতকরা ৯০ ভাগ অভিবাসী সমুদ্রপথে এখান থেকেই ইতালিতে প্রবেশ করে।

রেনজি আরও বলেন, উদ্ধার করার জন্য বেশি বেশি উদ্ধারকারী নৌকা পাঠালাম বা তৈরি করলাম, এটা কোন সমাধান নয়। বরং লিবিয়া থেকে নৌকাগুলো ছাড়া বন্ধ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে ইতালির ল্যাম্পেডুসা দ্বীপের দক্ষিণে লিবিয়ার জলসীমায় জাহাজটি ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালীয় কোস্টগার্ড।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২৪টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বহু মানুষ।

উদ্ধারকর্মীরা পানিতে ভেসে থাকা মানুষদের মধ্যে জীবিতদের সন্ধান করছে বলে জানিয়েছেন মাল্টার প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাস্কাট। এদিকে এ বিপর্যয় সামাল দিতে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ইউরোপের শীর্ষ নেতারা। বিষয়টি নিয়ে সোমবার লুক্সেমবার্গে একটি বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইইউ এর বৈদেশিক নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মঘারিনি।

এছাড়া এ সপ্তাহের শেষে নেতারা এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। মূলত লিবিয়ার সংকটজনক পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা। তাছাড়া আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিংসতা ও অর্থনীতির নাজুক অবস্থায় এসব অভিবাসীরা পালিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমাতে চেষ্টা করছে। যার কারণে এমন প্রাণহানি এ সাগরে নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধান এন্টোনিও গুটারেস বলেন, এটাই সবচেয়ে বড় নৌকাডুবির ঘটনা। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এ বিপর্যয় দেখিয়ে দিয়েছে যে, সমুদ্রে ভাল উদ্ধার অভিযানের ব্যবস্থা থাকা এবং ইউরোপে পৌঁছার একটি বৈধ পথ চালু করাটা কত জরুরি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেছেন, ইইউ’কে আরো বেশি কিছু করতে হবে। উদ্ধার কাজ এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় আরো প্রচেষ্টা নেয়া প্রয়োজন। দরকার আরো নৌকা, আরো বিমান আর সেইসঙ্গে মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইটাও আরো জোরদার হওয়া উচিত। তাছাড়া ইউরোপের অন্যান্য নেতারা এ ঘটনায় আতঙ্ক প্রকাশ করেন এবং ভূমধ্যসাগর কবরস্থানে রূপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত