ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

২৬ জানুয়ারি, ২০১৭ ২০:৫৮

বন্দি সন্ত্রাসীদের শারীরিক নির্যাতন করার পক্ষে ট্রাম্প

আটককৃত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ে প্রয়োজনে শারীরিক নির্যাতন করার পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জানুয়ারি) এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান লড়াই বেশ জটিল। আমাদের আগুনের সাথে আগুন নিয়েই খেলতে হবে। নতুবা জয় পাওয়া সম্ভব না।’

তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অনেকের সাথে কথা বলেছি। জানতে চেয়েছি তথ্য আদায়ে শারীরিক নির্যাতন করার প্রক্রিয়া কার্যকর কিনা? গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এটা কার্যকর পদ্ধতি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা মানুষকে গুলি করে কিংবা গলা কেটে হত্যা করছে। সেটার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা এসব কাজকে সমর্থন করতে পারিনা। এ নিষ্ঠুরতা বন্ধে আমাদেরও কঠোর হতে হবে। এজন্য যা করা প্রয়োজন, আইনের আওতায় থেকে তাই করতে হবে।’

উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তির বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক মাইক পম্পিওর সাথে পরামর্শ করবেন বলেও ট্রাম্প জানান। ‘এ দুজনের ওপর আমার আস্থা আছে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা পরিকল্পনার গোপন নথি ফাঁস করে দিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। ‘ডিটেনশন অ্যান্ড ইন্টারোগেশন অব এনিমি কমব্যাট্যান্টস’ নামের ৩ পাতার এ নথিতে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে বিতর্কিত শারীরিক নির্যাতনের প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন করে কোনো গোপন কারাগার খোলা হবে কিনা, তা উল্লেখ করা হয়নি। 

এ নীতির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলের বিতর্কিত পদ্ধতি ফের চালু করতে যাচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পরে আটককৃত সন্ত্রাসবাদীদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ে শারীরিক নির্যাতনের প্রক্রিয়া চালু করে তৎকালীন বুশ প্রশাসন। এজন্য প্রেসিডেন্ট বুশ গুয়েন্তানামো বেসহ বেশ কয়েকটি কারাগার চালু করেন। সেসময় এ প্রক্রিয়া ‘ওয়াটারবোর্ডিং’ নামে পরিচিতি পায়।

পরে মার্কিন প্রশাসনের নিপীড়নমূলক এ প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী তুমুল সমালোচিত হয়। সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নির্বাহী আদেশে এ প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষনা করেন। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথায় ও ফাঁসকৃত নথিতে বুশ যুগে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

তবে ট্রাম্পের এ উদ্যোগও সমালোচিত হয়েছে। সিআইএ’র সাবেক পরিচালক লিওন পেনেট্টা বলেন, ‘ট্রাম্পের এ উদ্যোগ বড় ভুল এবং পেছনের দিকে যাওয়ার সামিল।’ সূত্র: বিবিসি, সিএনএন ও এবিসি নিউজ 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত