জুয়েল রাজ, যুক্তরাজ্য

০৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৯:৪০

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপক্ষে এমপি ও স্পীকার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবমাননা করার ফন্দি আঁটছেন ব্রিটিশ কিছু এমপি। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র আমন্ত্রণে যদি তিনি ব্রিটেন সফরে যান তাহলে ওয়েস্টমিনিস্টার হলে তার বক্তব্য রাখার কথা। সেখানে যাতে তিনি এমন বক্তব্য রাখতে না পারেন সে জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু এমপি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস।

এতে বলা হয়েছে, এমন এমপির সংখ্যা বাড়ছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বার্কো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায়, নারীদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্যাতনের কারণে এমন অবস্থান নিচ্ছেন এমপিরা।

যদি ট্রাম্প ব্রিটেন সফরে আসেন এই গ্রীষ্মে এবং তখন তিনি ওয়েস্টমিনিস্টারে বক্তব্য রাখবেন কিনা তা নির্ধারণকারী তিন জনের মধ্যে একজন হলেন জন বার্কো। ট্রাম্পকে ওয়েস্টমিনিস্টারে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া উচিত নয় এমন এক বিবৃতিতে এরই মধ্যে প্রতি চারজন এমপির মধ্যে একজন স্বাক্ষর করেছেন। এর উদ্যোক্তা লেবার দলের এমপি স্টিফেন ডগটি।

তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টের পিছনের সারির এবং সামনের সারির, যুবক ও প্রবীণ, নারী ও পুরুষ এমপি আছেন যারা চান না ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন সম্মান দেয়া যথার্থ হবে। যদি তারা এ উদ্যোগে সফল হন তাহলে তা হবে ট্রাম্পের জন্য গাত্রদাহের কারণ।

উল্লেখ্য, ওয়েস্টমিনিস্টার হলো পার্লামেন্টের সবচেয়ে পুরনো ভবন। ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাসে এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দ্বিতীয় রাজা উইলিয়ামের অধীনে ১০৯৭ সালে নির্মিত হয় এ ভবনটি। এখানে ১৬৫৩ সালে লর্ড প্রটেক্টর হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন অলিভার ক্রোমওয়েল। এখানে বিশ্বের কীর্তিমান অল্প কিছু মানুষকেই বক্তব্য রাখতে দেয়া হয়েছে এখানে। এর মধ্যে রয়েছেন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, চার্লস ডি গুলি, নেলসন ম্যান্ডেলা, ষোড়শ পোপ বেনেডিক্ট প্রমুখ।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্পীকার জন বার্কো বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনে এলেও তাঁকে পার্লামেন্ট বক্তব্য দেয়ার পক্ষে নন তিনি।

তিনি বলেন রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ব্রিটেনের যে কোন স্থানে তিনি বক্তব্য দিতে পারেন কিন্তু পার্লামেন্ট নয়।

বার্কো বলেন, ট্রাম্প যেভাবে ইমিগ্র্যান্টদের যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে বাতিল করছেন, ঠিক সেরকমভাবে তিনি ট্রাম্পকেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য দেয়া থেকে বঞ্চিত দেখতে চান।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে সফরের আমন্ত্রণ জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। পার্লামেন্টে ট্রাম্পকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিতে ১৬৩ সাংসদরে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বার্কো বলনে, ‘পার্লামেন্টের উভয় হাউসে একজন বিদেশী নেতার বক্তব্য দেয়ার যে সুযোগ, তা স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়, তা অর্জিত সম্মান।’

বিদেশী কোন রাষ্ট্রনেতাকে পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার জন্য যে তিনজনের অনুমোদন প্রয়োজন, হাউস অব কমনসের স্পীকার তাঁদের একজন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত