২০ জানুয়ারি, ২০১৫ ১৯:২৮
ভারতে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা। মঙ্গলবার ব্যঘ্র-সুমারির রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ভারতীয় সরকারের বাঘ শুমারি কতৃপক্ষ । সেখান থেকেই উঠে এসেছে, গত চার বছরে বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ গণনা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বাঘের সংখ্যা ২,২২৬। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,৭০৬। তারও চার বছর আগে, অর্থাত্ ২০০৬ সালে দেশে বাঘের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ১,৪১১।
এদিন দেশব্যাপী ব্যঘ্রসুমারির রিপোর্ট প্রকাশ করতে গিয়ে ভারতের পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বাঘের সংখ্যাবৃদ্ধিকে সকলের মিলিত প্রচেষ্টার সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যেখানে সারা বিশ্বে বাঘের সংখ্যা কমছে, কিন্তু ভারতে তা বাড়ছে। জাভড়েকর বলেন, ‘বিশ্বের ৭০ শতাংশ বাঘের বাস এখন ভারতেই।’ তিনি যোগ করেন, এদেশের ব্যঘ্র প্রকল্পগুলি বিশ্বের অন্যতম সেরা।
শুমারির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী জানান, মোট ৯,৭৩৫টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিশ্বে আর কোথাও বাঘ গণনার কাজে এত বিপুল সংখ্যক ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়নি। সদ্য-প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে বাঘের সংখ্যা ১,৯৪৫ থেকে ২,৪৯১ পর্যন্ত হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাঘের সংখ্যা যে রাজ্যগুলিতে সবথেকে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে তার মধ্যে কর্নাটক, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কেরল অগ্রগণ্য।
বস্তুত, ২০০৬ সালের সেনসাসে বাঘের সংখ্যা ১,৪১১ তে এসে নেমে গিয়েছিল। এর পরই নড়েচড়ে বসে ভারত সরকার। ময়দানে নামে বিভিন্ন পশুপ্রেমী ও বন্যপ্রাণীপ্রেমী সংগঠন। যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় হলুদ-কালো ডোরাকাটা জন্তকে রক্ষার প্রয়াস। ‘সেভ টাইগার প্রজেক্ট’ নামে ব্যঘ্র-সংরক্ষণ প্রকল্প শুরু করে তত্কালীন প্রথম ইউপিএ সরকার। চোরাশিকারীদের হাত থেকে বাঘকে বাঁচানোর জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বাড়ানো হয় নজরদারিও। যার জেরে গত আট বছরে দেশের ধীরে ধীরে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা।
এদিন ফরেস্ট-অফিসার, ফরেস্ট-গার্ডদের ভূমিকার প্রশংসা করেন জাভড়েকর। তিনি জানান, এখন দেশের মধ্যে ১৮টি রাজ্যে ব্যঘ্র সংরক্ষণ অঞ্চল রয়েছে। সেই সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। বহুক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, খাবারের অভাবে বন থেকে বেরিয়ে এসে সংলগ্ন জনবসতিতে হানা দিচ্ছে বাঘ। এতে অনেক সময় মানুষের প্রাণহানিও ঘটে। এই প্রসঙ্গে জাভড়েকর জানান, বনে বেশি পরিমাণে তৃণভূমি ও জলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ফলে তৃণভোজী জন্তরা যথেষ্ট সংখ্যায় খাকবে, আর খাবারের খোঁজে বাঘেরা বন ছেড়ে বের হবে না।
একইসঙ্গে, বাঘের মুখোমুখি হলে কী কী করণীয়, বা বাঘ সংরক্ষণে তাঁরা কী ভূমিকা নিতে পারেন, সেই নিয়ে জনবসতিতে গিয়ে সচেতনতা শিবির গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন জাভড়েকর। তবে, তিনি এ-ও মনে করেন, বাঘ নয়, হাতির থেকে মানুষের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। তিনি জানান, গত এক বছরে বাঘের হানায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে হাতির হানায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১০০।
আপনার মন্তব্য