২৪ অক্টোবর, ২০১৫ ০৩:০৪
পুরান ঢাকায় শিয়াদের সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হোসেনী দালানে ভয়াবহ এ হামলা হয়। ঘটনায় নিহত হয়েছে ১ জন। আহত প্রায় অর্ধশত।
শুক্রবার রাত ২টায় (শনিবার ভোর) এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১০/১২ বছরের একটি ছেলের মৃত্যু হয় বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান।
মিছিল শুরুর আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা হোসেনী দালানের চারপাশ পরিদর্শন করেন। এর পরপর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরেও হোসেনী দালান চত্বরে টেপে মোড়ানো বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তুও পাওয়া যায়।
চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ বলেছেন, “তাজিয়া মিছিলের জন্য শিয়া ধর্মাবলম্বীরা হোসেনী দালানে সমবেত হলে পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আহতদের যে যার মতো করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।”
এদিকে এ ঘটনায় আহত অর্ধশতাধিক লোক রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন বলে মেডিকেল ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাইরে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অন্যান্যরা চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম বোমাটি বিস্ফোরণের পরই চারিদিকে ছোপ ছোপ রক্ত দেখেন তারা। নিজেরাও রক্তাক্ত অবস্থায় বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। দৌড়ে বের হওয়ার সময় আরও বোমার বিস্ফোরণে আরও অনেকে আহত হন।
পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে নিষ্ক্রিয় করে আরো ২টি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড।
ডিবির এডিসি সানোয়ার হোসেন জানান, বোমাগুলো দেশে তৈরি হ্যান্ড গ্রেনেড বলে ধারণা করছে পুলিশ। এরকম বোমা জেএমবি’র কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিলো।
নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ নজরদারির মধ্যেই ঘটে এ নৃশংস ঘটনা। তবে নিরাপত্তায় কোোন ঘাটতি ছিল না বলে জানায় পুলিশের এক কমিশনার।
ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শেখ মারুফ হাসান জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিলো না। অপরাধীরা নানা ভাবে সুযোগ কাজে লাগায়।
হামলায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, ১০ মহররম আশুরা উপলক্ষ্যে প্রতিবারের মত এবারও পুরান ঢাকায় হোসেনী দালানে সমবেত হয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানের মার্সিয়া, মাতম ও তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে দিনটি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
হোসেনী দালান ছাড়াও রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মগবাজার ও পল্টন থেকেও তাজিয়া মিছিল বের করেন শিয়া মতাবলম্বীরা।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের (রা.) শহীদ দিবস আরবি মহররম মাসের ১০ তারিখকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালন করেন শিয়া মতাবলম্বীরা। সপ্তম শতকে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন ইমাম হোসেন।
দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো শনিবার ভোররাতে তাজিয়া মিছিলের জন্য হোসেনী দালানে সমবেত হন শিয়া মতাবলম্বীরা।
আপনার মন্তব্য