সিলেটটুডে ডেস্ক

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:৩৪

হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশ

হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে অক্সিজেনসহ বিভিন্ন রোগ পরীক্ষার মূল্য তালিকা দৃশ্যমান জায়গায় টানানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ফরিদ হোসেন মিঞা।

তিনি বলেন, ‘অক্সিজেনসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এখন সেটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এই মূল্য তালিকা দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্ট সেন্টারের খোলা জায়গায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।’

উচ্চ আদালতের নির্দেশে এ তালিকা প্রকাশ করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এ বিষয়ে রিটকারি আইনজীবী বশির আহমেদ।

তিনি জানান, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। করোনার সময়ে অসহায় রোগীর কাছ থেকে কয়েকগুন বেশি দামে অক্সিজেনসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মূল্য নেয়া হতো। উচ্চ আদালত থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা এসেছে। তারই আলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এখনও রিটটি বিচারাধীন রয়েছে।

মূল্য তালিকায় একক অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মেনিফোল্ড অক্সিজেন সিলিন্ডার সিস্টেমে ঘণ্টায় দুই থেকে পাঁচ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১০০ টাকা, ছয় থেকে ৯ লিটারের জন্য ১২৫ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটারের জন্য ১৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে (জেনারেটর বেইজড) ঘণ্টায় দুই থেকে পাঁচ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১২০ টাকা, ছয় থেকে ৯ লিটারের জন্য ৩০০ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটারের জন্য ৩৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে (লিক্যুইড অক্সিজেন ট্যাংক বেইজড) ঘণ্টায় দুই থেকে পাঁচ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের জন্য ১২০ টাকা, ছয় থেকে ৯ লিটার ব্যবহারের জন্য ২৫০ টাকা এবং ১০ থেকে ১৫ লিটার ব্যবহারের জন্য ৩০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে হাইফ্লো নেজাল ক্যানুলা দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ লিটার অক্সিজেন ব্যবহারের মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করার হয়েছে।

এ ছাড়া জরুরি ১০টি পরীক্ষা যথা- সিবিসি পরীক্ষার স্থিরকৃত সর্বনিম্ন ৪০০ ও সর্বোচ্চ মূল্য ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিআরপি পরীক্ষার স্থিরমূল্য ৬০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা।

এলএফটি পরীক্ষার স্থিরমূল্য নির্ধারণ করেছে ১০০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৯৫০ থেকে ১৬০০ টাকা।

এস ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষার স্থিরমূল্য ৪০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এস ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষার স্থিরমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৮৫০ থেকে ১৪৫০ টাকা।

ডি ডিমার পরীক্ষার স্থিরমূল্য ১৫০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ১১০০ থেকে ৩২০০ টাকা।

এস ফেরিটিন পরীক্ষার স্থিরমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,২০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ১,০০০ থেকে ২,২০০ টাকা।

এস প্রোকালসিটোনিন পরীক্ষার স্থিরমূল্য ২,০০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা।

সিটি স্কেন (চেস্ট) এর স্থিরমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬,০০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ৫,০০০ থেকে ১৩,০০০ হাজার টাকা।

চেস্ট এক্স-রে (এ্যানালগ) এর স্থিরমূল্য ৪০০ টাকা, চেস্ট এক্স-রে (ডিজিটাল)’র ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ দুটি এক্স-রের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৩০০ থেকে ৫০০ এবং ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।

২০১৮ সালে একটি মানবাধিকার সংগঠনের দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়। ওই রুলের ধারাবাহিকতায় গত বছরের শেষের দিকে হাইকোর্ট বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি (ইউজার ফি) নির্ধারণের অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেন। তারই আলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তালিকা প্রণয়ণ করে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত