নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:০৮

সিলেটের তিনটিসহ ৬২ পৌরসভায় চলছে ভোটগ্রহণ

ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর পৌরসভার তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) পৌর নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সিলেটের তিনটিসহ দেশের ৬২ পৌরসভায়  দেশের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এদিক সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সিলেট বিভাগের যে তিনি পৌরসভায় ভোট সেগুলো হলো মৌলভীবাজার সদর; সিলেটের জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ। এদিকে মৌলভীবাজার সদর পৌরসভার ভোটের আগের দিন নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি প্রার্থী।

সিলেট বিভাগের বাইরের অন্য পৌরসভাগুলো হচ্ছে- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ; নওগাঁর ধামইরহাট ও নওগাঁ সদর; বগুড়ার ধুনট, গাবতলী, শিবগঞ্জ, নন্দীগ্রাম ও কাহালু; রাজশাহীর মুন্ডুমালা; ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু ও কোটচাঁদপুর; বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ; কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও বরুড়া; চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ; ফেনী সদর; মুন্সীগঞ্জ সদর; শরীয়তপুরের নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ; ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ভালুকা; শেরপুরের নকলা; নাটোরের সিংড়া; রাজশাহীর কেশরহাট; চুয়াডাঙ্গার দর্শনা; ঝালকাঠির নলছিটি; নেত্রকোণার দুর্গাপুর; যশোরের মনিরামপুর; নোয়াখালীর হাতিয়া ও চৌমুহনী; লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ; কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী; গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া; টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, সখিপুর, মধুপুর ও মির্জাপুর; বরগুনা সদর ও পাথরঘাটা; ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান; শেরপুরের নালিতাবাড়ী; কুড়িগ্রামের উলিপুর; দিনাজপুরের হাকিমপুর; চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর; নড়াইল সদর ও কালিয়া; সাতক্ষীরার কলারোয়া; রাজবাড়ীর পাংশা; পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি; বরিশালের গৌরনদী ও মেহেন্দীগঞ্জ; জামালপুরের সরিষাবাড়ী; নীলফামারীর জলঢাকা; পাবনা সদর এবং খুলনার পাইকগাছা।

এদিকে নানা অভিযোগ আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ নির্বাচন। এই ধাপে ৬৩ পৌরসভায় কাগজের ব্যালটে ভোট নেওয়া হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের ধাপের সহিংসতার কথা মাথায় রেখে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উৎসবমুখর এ নির্বাচন নিয়ে যেমন রয়েছে উত্তেজনা, তেমনি শঙ্কাও রয়েছে ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে। এই ধাপের ভোট নিয়ে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটে অনিয়ম রোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ধাপে শেষ মুহূর্তের প্রচারে বাধা দেওয়ার নানা অভিযোগ তুলেছেন প্রার্থীরা। অনেক প্রার্থী কেন্দ্র দখলের শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। প্রার্থীদের হত্যার হুমকি, হামলা-পাল্টা হামলা, আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন পৌরসভায়। ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে কাল মধ্যরাতে প্রচার শেষ হয়েছে।

নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। পাশাপাশি মেয়র পদে লড়ছেন বেশকিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীও। এ ধাপে মোট ৩৭ জন জনপ্রতিনিধি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন মেয়র, নয়জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ২৫ জন সাধারণ কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, এবারের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মোট তিন হাজার ৩৪৪ প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ২২৯ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৫৫ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৩৬০ জন। তৃতীয় ধাপে ৬৪ পৌরসভা নির্বাচনে তিন পদে মোট বৈধ প্রার্থী ছিল ৩৫৫০ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে ২৫৭ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৭২ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫২১ জন প্রার্থী ছিলেন। তিন পদে মোট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৩৭১৫ জন। যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন ১৬৫ জন। তবে ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভায়

তৃতীয় ধাপে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও এক মেয়র প্রার্থীর মৃত্যুতে এ নির্বাচন স্থগিত করে চতুর্থ ধাপে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে তৃতীয় ধাপে ৬২ পৌরসভায় নির্বাচন হবে। এদিকে মৌলভীবাজার সদর পৌরসভার ভোটের আগের দিন নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, কুমিল্লার লাকসাম ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপে তিন পদে ৩৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

মহামারির মধ্যে এবার পাঁচ ধাপে পৌরসভা নির্বাচন করছে কমিশন। প্রথম ধাপের তফসিলের ২৪টি পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হয় ২৮ ডিসেম্বর। ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভায় ভোট হয়। চতুর্থ ধাপে ৫৭ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি এবং পঞ্চম ধাপের ৩১ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত