সিলেটটুডে ডেস্ক:

১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২২ ১৯:৪৩

কলেজছাত্রীকে আটকে রেখে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণ’: আরও দুজন গ্রেপ্তার

রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ থেকে এক কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে চার দিন আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আর দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে অভিযুক্ত আল আমিন ওরফে বিল্লাল ও মো. সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে আল আমিন ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সবুজ ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু মেয়েটি বাধা দেওয়ায় তা করতে পারেনি।মেয়েটিকে মারধর করেছে সবুজ।’

আল আমিন ও সবুজকে হাজারীবাগ থানায় রাখা হয়েছে। শুক্রবার তাদের কোর্টে তোলা হবে।

এর আগে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তার নাম মনির হোসেন শুভ (২২)। রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। শুভ চকবাজারের আব্দুল কাদের জিলানীর ছেলে।

গ্রেপ্তার শুভর বরাত দিয়ে র‌্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দাবি, ওই তরুণীর সঙ্গে এক মাস আগে লালবাগের একটি বাসায় এক বন্ধুর মাধ্যমে শুভর পরিচয় হয়। তাদের চার-পাঁচবার দেখা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। গত পাঁচ দিনেও তাদের দেখা হয়েছে। তবে অপহরণ ও ধর্ষণের কথা শুভ অস্বীকার করেছে। শুভ বিবিএ শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে।

এর আগে আটকে রেখে ধর্ষণের পর ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার রাতে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এক নারী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ওই ছাত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, তার মা বেঁচে নেই। বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্ত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি প্রাইভেট পড়তে শিক্ষকের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে লালবাগের কেল্লার মোড়ে আল আমিন ও শুভ নামে দুজন তাকে মুখে রুমাল চেপে ধরলে তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। পর চেতনা ফিরলে দেখতে পান, একটি পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে তিনি। ভবনে তারা ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। ভবনটি কোন এলাকায়, তা চিনতে পারেননি।

ছাত্রী অভিযোগ করেন, চেতনা ফিরলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি শুভ ও আল আমিনের কাছে কাকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেননি। উল্টো তারা ধর্ষণ করতে চান। এতে বাধা দিলে তাকে তারা মারধর ও ধর্ষণ করেন। এভাবে চার দিন আটকে রেখে তাকে প্রতিদিন তারা দুজন পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার বিকেলে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রেখে পালিয়ে যান ওই দুজন। সেখান থেকে এক নারী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

শুভ ও আল আমিন তার পূর্বপরিচিত বলে জানান ছাত্রীটি।

তিনি বলেছেন, কিছুদিন ধরে শুভ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তাতে রাজি না হওয়ায় ফোনে উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত