সিলেটটুডে ডেস্ক

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৭:৪৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনার মাধ্যমে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জি-২০ সম্মেলনে যোগদানের জন্য ভারতের নয়াদিল্লি যাওয়ার আগে শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ‘পূর্ব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগদান শেষে দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছেন ল্যাভরভ। স্বাধীনতার পর এটিই প্রথম কোনো রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর।

বাংলাদেশ সফর শেষে ৯-১০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ল্যাভরভ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

গত বছরের নভেম্বরে ল্যাভরভের ঢাকা সফরের কথা থাকলেও সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে তাকে তা বাতিল করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সেখানে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সেখান থেকে রাশিয়ার দূতাবাসে যান সের্গেই লাভরভ।

 বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় আসেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। একই দিনে সন্ধ্যায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বসেন।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ উপস্থিত ছিলেন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা সব ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছি।’

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা ঢাকা ও মস্কোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ ভারতের পর বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অংশীদার।

তিনি বলেন, আলোচনাকালে তারা রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেছেন।

লাভরভ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজতে তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অব্যাহত আলোচনাকে সমর্থন করেন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এবং তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।

ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আসায় ঢাকা অত্যন্ত আনন্দিত।

তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

আবদুল মোমেন বলেন, ঢাকা অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখে এবং এর উদ্দেশ্য হলো— সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধান করা।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা কোথাও কোনো প্রক্সিওয়ারও দেখতে চাই না। আমরা চাই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হোক।’

মোমেন বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব স্বার্থ অনুসরণ করে চলি এবং আজ পর্যন্ত আমরা খুব স্বাধীন নীতি বজায় রেখেছি।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত