বাসস

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:২৭

জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ধনী ও উন্নত দেশগুলোর জোট জি-২০-এর ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সম্মেলনস্থলে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সম্মেলনে অংশ নিতে সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের অনেকেই শুক্রবার নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন।

আজ শনিবার ও কাল রোববার নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপম কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মেলন হবে। সম্মেলনের সভাপতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

একঝাঁক বিশ্বনেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এ বছর অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসরমান দেশগুলোর জোট জি-২০-এর শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ভারত সরকার। এ সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে শুক্রবার দুপুরে দিল্লির মাটিতে পা রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ থেকে শুরু করে আমন্ত্রিত দেশগুলোর শীর্ষ নেতারাও শুক্রবার নয়াদিল্লি পৌঁছে গেছেন। তবে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জিনপিংয়ের পরিবর্তে সম্মেলনে তার প্রতিনিধিত্ব করছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং পুতিনের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

অনেক আশা নিয়ে আয়োজন করা সম্মেলনে জিনপিং ও পুতিনের অনুপস্থিতির কারণে সম্মেলন থেকে সর্বসম্মত যৌথ ঘোষণা আসা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়ান জয়শঙ্কর গতকাল দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, যৌথ ঘোষণা প্রায় চূড়ান্ত।

এবারের সম্মেলনে শীর্ষনেতাদের সঙ্গে আয়োজক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতার মধ্যে বিশ্বে একটি নেতৃত্বের আসন নিতে চায় ভারত। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে সেই বার্তা বিশ্বনেতাদের কানে পৌঁছাতে চায় নয়াদিল্লি।

এবারের সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও ঋণের ব্যবস্থা করা, আন্তর্জাতিক ঋণকাঠামোর সংস্কার, ক্রিপটোকারেন্সি নিয়ে নীতিমালা তৈরি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব।

শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদি। দুটি বৈঠকই ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ৭ লোককল্যাণ মার্গের বাসভবনে নৈশভোজে যোগ দেন বাইডেন। আগামী দুই দিন দিল্লির আইটিসি মৌর্য শেরাটনে বিশেষ প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে থাকবেন বাইডেন।

বাইডেন ও তার প্রতিনিধিদলের জন্য হোটেলের প্রায় ৪০০ ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছে। বাইডেন থাকবেন ১৪তম তলায়। ১৪ তলা থেকে নিচে আসার জন্য বিশেষ লিফটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে তিনি থাকবেন, সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কেবল বিশেষ কয়েকজনকে।

বাইডেনের আগমন ঘিরে চরম ব্যস্ততা দিল্লিজুড়ে। কড়া ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের সব থেকে বাইরের স্তরে থাকবে আধাসামরিক বাহিনী, দ্বিতীয় স্তরে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডো এবং সবচেয়ে ভেতরের বলয়ে থাকবেন গোয়েন্দা বিভাগের গোপন কর্মকর্তারা।

‘দ্য বিস্ট’ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নিরাপদ গাড়ি হিসেবে পরিচিত। বুলেটপ্রতিরোধী এ গাড়ি সব সময় বাইডেনের নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারায় থাকে। দিল্লিতেও এ গাড়ির জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে নয়াদিল্লি। মোতায়েন করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত