১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২২:২২
নির্যাতনের শিকার আনোয়ার হোসেন নাঈম একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহিত
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্যের মারধরে আহত ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন নাঈম পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শাহবাগ থানার ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রুমে তাদের মারা হয়েছে।
রোববার বিকেলে গণমাধ্যমকে তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসাপাতালে ভর্তি আছেন।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাঈম বলেন, ‘গতকাল রাতে আমি এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুনিম (শরীফ আহমেদ মুনিম) শাহবাগের বারডেম হাসপাতাল হয়ে ক্যাম্পাসের দিকে আসছিলাম। এরপর আমরা বারডেম হাসপাতালের সামনে রাষ্ট্রপতির এপিএস আজিজুল হক মামুন ভাইকে দেখতে পাই। আমরা নামতে নামতে দেখি, ভাই লিফটে করে কার্ডিওলজি বিভাগের সামনে চলে গেছেন।’
‘৫-৭ মিনিট পরে গিয়ে আমরা দেখি, ভাই ও এডিসি হারুনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। এরপর আমি ও মুনিম ঘটনার মীমাংসা করার চেষ্টা করি। পরে সেখানে সেটা মীমাংসা হয়। এর কিছুক্ষণ পর এডিসি হারুন ১০-১৫ জন পুলিশ নামক সন্ত্রাসীকে ফোন দিয়ে সেখানে নিয়ে আসেন। তারা আজিজুল হক মামুন ভাই, মুনিম ও আমার ওপর চড়াও হয়। এরপর সেখান থেকে মারতে মারতে মুনিমকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।’
নাঈম বলেন, “এই ঘটনার ৫-৭ মিনিট পর আমি শাহবাগ থানায় যাই। আমি থানায় ঢুকলে এডিসি হারুন উপস্থিত পুলিশদের আমাকে দেখিয়ে বলেন, ‘এ আমাকে মারছে। একে তোরা মার!’ এরপর থানার ওসির রুমে এডিসি হারুনসহ ১০-১৫ জন এসআই এবং কনস্টেবল আমার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন করে। তারা বুট জুতা দিয়ে লাথি, কিল, ঘুষি যে যেভাবে পারছে আমাকে মেরে আহত করেছে। আমার সারা শরীরে এখন ব্যথা। আমার এই পর্যন্তই মনে পড়ছে। এরপরের ঘটনা আমার আর মনে নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক (যথাক্রমে সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান) আমাকে দেখতে এসেছেন। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, ওনারা এটা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলবেন। রমনা জোনের ডিসি (উপ-কমিশনার) মহোদয় এসেছিলেন। উনিও বলেছেন, ডিএমপি কমিশনার স্যার এবং আইজি স্যারের সঙ্গে উনি কথা বলবেন। কিন্তু আমি এখানে ভরসা পাচ্ছি না।’
আক্ষেপ করে নাঈম বলেন, ‘ছাত্রলীগ এতিমের সংগঠন। আর এই সংগঠনের একজন নেতার সঙ্গে হওয়া ঘটনাটির বিচার করতে পারবেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাচ্ছি।’
‘থানা হচ্ছে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল, আর সেই থানাই নিয়ে গিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়েছে। আমি তাদের আমার পরিচয় দিয়েছি, কিন্তু তারপরও আমাকে এভাবে মেরেছে’, যোগ করেন নাঈম।
তিনি বলেন, ‘আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই। সুষ্ঠু বিচার মানে এই জোন থেকে ওই জোনে বদলি নয়। তাকে চাকরিচ্যুত করতে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি।’
এসময় হাসপাতালে থাকা আনোয়ার হোসেন নাঈমের মা বলেন, ‘আমার বাজানকে তো মাইরা ফেলানোর জন্যই সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। আজরাইলের মত ১৫-২০ জন আমার ছেলেকে কেন এইভাবে মারলো আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটার বিচার চাই।’
আপনার মন্তব্য