২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১২:০৯
ছবি : সংগৃহীত
আশরাফুল আলম হোসেন ওরফে হিরো আলম নানা কারণে আলোচিত। এবার আলোচিত এই ইউটিউবার ‘এমপি হতে’ নাকি শিপন কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
শিপন কুমার বসু বাংলাদেশের নাগরিক। থাকেন কলকাতায়। ফেসবুকে তার পরিচয় দেওয়া আছে ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে। তার সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। মেন্দি যদিও মোসাদের এজেন্টের চাইতে নিজেকে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা এবং সাফাদি ফাউন্ডেশনের কর্ণধার পরিচয় দেন। তার সঙ্গে শিপন কুমারের যোগাযোগের প্রমাণ মেলে মেন্দির ফেসবুক পোস্টেও। যদিও কিছুদিন আগে তিনি শিপন কুমার তার নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, হিরো আলম এমপি হতে চান। একাধিক সাক্ষাৎকারে তার লক্ষ্য এমপি হওয়া এমনটাই বলেছেন। আলোচিত এই ইউটিউবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচনও করেছেন। সফল হতে পারেননি।
একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে শিপন কুমার বলেন, হিরো আলম আমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। তিনি যখন দুবাইয়ে আরাভ খানের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, সেখান থেকেও আমাকে একাধিকবার ফোন দিয়েছিলেন।
শিপন বলেন, উনি (হিরো আলম) সামনের নির্বাচনে এমপি হতে চান। তার মতে, আমার সঙ্গে ভারত সরকার, ইসরায়েলের মোসাদ এবং জাতিসংঘের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাকে যেন আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা যে কোনো দল থেকে যেন নমিনেশন পাইয়ে দেওয়া হয়। হিরো আলম আমাকে বলেছে, দাদা আপনিই শেষ ভরসা। তবে আমি তাকে নমিনেশন দেওয়ার নিশ্চয়তার বিষয়ে কিছু বলিনি। আমি কেবল তাকে শুভকামনা জানিয়েছি।
এ বক্তব্য প্রসঙ্গে হিরো আলম বলেন, শিপন কুমারের সঙ্গে আমার একবার কথা হয়েছে। তাকে আমি ভালো করে চিনি না। আমার অফিসে একজন লোক এসেছিলেন। ওই লোককেও আমি ভালো করে চিনি না। তিনি এসে বললেন শিপন কুমারের সঙ্গে কথা বলার জন্য। পরে আমি কথা বলি। বিভিন্ন কথার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানতে চেয়েছেন আমার পরবর্তী ইচ্ছা কী। আমি বলেছি, আমার একটাই ইচ্ছা—সেটি হচ্ছে এমপি হওয়া। শুধু এতটুকুই বলেছি।
শিপন কুমারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, না না, এমন কিছু বলিনি। এটা তিনি এক লাইন বাড়িয়ে বলেছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মেন্দি এন সাফাদির নাম আলোচনায় আসে ২০১৬ সালে।
২০১৬ সালে ভারতের আগ্রায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতে আসেন সাফাদি। ওই সময় শিপন কুমারের মধ্যস্থতায় সাফাদির সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতে ইসরায়েলিদের সঙ্গে আঁতাত করতেই ওই বৈঠক হয়েছিল। সাফাদির সঙ্গে সাক্ষাতের খবর প্রকাশ হওয়ার পর ওই বছরের ১৫ মে আসলামকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক বছর পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে তার বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতি মামলাসহ একাধিক মামলা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে।
সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুরের সঙ্গে সাফাদির বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এই দুটি নাম আবারও আলোচনায় আসে। নুর প্রথমে সাফাদির সঙ্গে বৈঠকের কথা অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সাফাদির বৈঠকের বিষয়টি উঠে আসে। সূত্র: কালবেলা।
আপনার মন্তব্য