সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৪৭

বাংলাদেশের জন্মবন্ধু জেনারেল জ্যাকবের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বাংলাদেশের জন্মবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় ভারতীয় সেনাপতি এবং পাঞ্জাবের সাবেক গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জেএফআর জ্যাকবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এ শোক প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার শোক বিবৃতিতে বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক অকুতোভয় সেনানীকে হারালাম। মুক্তিযুদ্ধে জেনারেল জ্যাকবের অবদান এই জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হসপিটালে মৃত্যুবরণ করেন জ্যাকব। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কাছে যে দলিল স্বাক্ষরের মাধ্যমে জন্ম হলো নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ, সে ঐতিহাসিক দলিলের খসড়া রচনা করেছিলেন তিনি। এবং পাকিস্তানের নিয়াজীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কৃতিত্বও তার।

জেনারেল জ্যাক ফ্রেডেরিক রালফ জ্যাকবের জন্ম ১৯২৩ সালে। জ্যাকব ১৯২৩ সালে অবিভক্ত ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বিখ্যাত।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদ হতে অবসর গ্রহণকারী জেনারেল জ্যাকব ১৯৭১ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন। ৩৬ বছরের সেনাবাহিনী জীবনে তিনি ২য় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জে.এফ.আর জ্যাকব এবং জেনারেল জ্যাকব নামেও পরিচিত।

১৯৪২ সালে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তাঁর পিতা তাকে সেনাবাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে আপত্তি জানান কিন্তু তার পরেও তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।

‘সারেন্ডার ইন ঢাকা, বার্থ অফ এ নেশন’ এবং ‘অ্যান ওডেসি ইন ওয়ার অ্যান্ড পিস’ বইয়ে জ্যাকব লিখে গেছেন সেইসব আগুনঝরা দিনের কথা, যে পথ ধরে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এএকে নিয়াজী ঢাকার তখনকার রেসকোর্স ময়দানে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন, পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের।

মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয়দের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে যেটুকু আলোচনা তার বেশিরভাগই তৎকালীন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল স্যাম মানেক্শকে ঘিরে, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও বীরত্বের জন্য 'মিলিটারি ক্রস' অর্জন করেন।

সেই দিনগুলোতে ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার ওপর খুব বেশি আস্থা রাখতে পারছিলেন না মানেক্শ। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সমর পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তায় তখনকার মেজর জেনারেল জ্যাকবের ওপর।

মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা সেই দিনগুলি ও পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের কথাগুলো জেনারেল জ্যাকব তার ‘সারেন্ডার ইন ঢাকা, বার্থ অব এ নেশন’ এবং ‘অ্যান ওডেসি ইন ওয়ার অ্যান্ড পিস’গ্রন্থে লিখে গেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত