সিলেটটুডে ডেস্ক

১০ অক্টোবর, ২০২৩ ১২:১৬

আদিলুর-এলানের জামিন

আদিলুর রহমান খান শুভ্র

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আইনজীবী আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

তাদের করা এক আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. এমদাদুল হক আজাদের একক বেঞ্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের দেওয়া ১০ হাজার টাকা জরিমানা স্থগিত করা হয়।

তাদের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনালের এ জে মোহাম্মদ আলী ও আইনজীবী রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত তাদের ২ বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। ২১ সেপ্টেম্বর ৫০ পৃষ্ঠার পুর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সাজাপ্রাপ্তরা সশ্রম কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে জামিন চান তারা।

১০ বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৬১ জন নিহত হওয়ার কথা দাবি করেছিল অধিকার। তবে সরকারের ভাষ্য, সেই রাতের অভিযানে কেউ মারা যায়নি। সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে ওই বছরের ১০ জুন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে সেটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

মামলার রায় পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হেফাজতের তাণ্ডবের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আদিলুর ও এলানের সংগঠন অধিকার বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন করেছে।

নথিতে বলা হয়েছে, হেফাজতে ইসলামের ওই সমাবেশে পুলিশের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মে সকালে পুলিশসহ ১১ জন মারা যান। অথচ অধিকারের ওয়েবসাইটে একই বছরের ১০ জুন ৬১ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে নাশকতার পুরোনো কিছু ছবিও যুক্ত করা হয়। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে উসকানি ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে আসামিরা ২০০৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় অপরাধ সংঘটন করেছেন।

বিলুপ্ত এই আইনের ৫৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে এ কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে।

এ অপরাধের জন্য ৫৭(২) ধারায় সর্বোচ্চ ১৪ বছর ও সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আদিলুর রহমান খান শুভ্র বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল ছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত