সিলেটটুডে ডেস্ক

১৫ অক্টোবর, ২০২৩ ২১:২৫

‘দেশকে জাহান্নামের সঙ্গে তুলনা করা’ বিচারপতি আজাদের নীরব বিদায়

একটি মামলার জামিন শুনানির সময় ‘দেশটাকে তো জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছেন’ মন্তব্য করা বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের শেষ কর্মদিবস ছিল রোববার (১৫ অক্টোবর)। নীরবে সমাপ্ত হয়েছে তার সুপ্রিম কোর্ট-অধ্যায়। বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় সংবিধান অনুসারে অবসরে গেছেন তিনি। 

বিচারপতিদের বিদায়ের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের রীতি অনুযায়ী শেষ কর্মদিবসে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি থেকে বিদায়ী বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের জন্যে এসবের কিছুই ছিল না।

তিনি অবশ্য আগেই জানিয়েছিলন কোন ধরনের সংবর্ধনা নেবেন না। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপতিদের যে সংবর্ধনা দেওয়া হয় ওই সংবর্ধনাও তিনি নেবেন না বলেও জানিয়েছেন।

এদিকে শেষ কর্মদিবসে এজলাসেও বসেননি তিনি। রোববার প্রধান বিচারপতির দপ্তরকে বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদ জানান, তার শরীর ভালো নেই, তাই কোর্টে আসবেন না তিনি।

সংশ্লিষ্ট কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের একাধিক সূত্র বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।

এরআগে গত ১০ অক্টোবর তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাদের সাজা নিয়ে করা আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্টের বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদের একক বেঞ্চ। এক পর্যায়ে এ বিচারপতির আদালত বলেন, ‘দেশটাকে তো জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছেন’।

পরে বিচারপতির এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সতর্ক করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিদের উপস্থিতিতে বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদকে ডেকে সতর্ক করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খাস কামরায় আসার পর বিচারপতি ইমদাদুল হক আজাদকে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আদালতে বিচারকাজের সময় মন্তব্য করার ব্যাপারে আরও যত্নশীল হতে বলেন প্রধান বিচারপতি।

এদিকে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের এমন মন্তব্যকে ‘অসাংবিধানিক ও অসৌজন্যমূলক’ এবং এতে তার ‘শপথ ভঙ্গ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন ইমদাদুল হক আজাদ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর জেলা ও দায়রা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন তিনি। এরপর ১৯৮৫ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে এবং ২০০১ সালের ২৭ ফেব্রম্নয়ারি আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভূক্ত হন তিনি। ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান ইমদাদুল হক। দুই বছর পর ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত