০৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ২৩:৫৪
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক দিন আগে রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে আগুনের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই ট্রেনের চারটি কামরা পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে তারা আগুন লাগার খবর পান। প্রথমে খিলগাঁও ও পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট সেখানে ছুটে যায়। পরে আরও তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়। শনিবার থেকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের আগের রাতে এ ঘটনা ঘটে।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন রাত সাড়ে ১০টার দিকে গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ে জানান, র্যাব-বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় ট্রেনের 'চ' বগি থেকে চার জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধারের কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাত সোয়া ৯টার দিকে আমরা আগুন লাগার খবর পাই। আগুন কীভাবে লেগেছে, এটি নাশকতা কী না,তা র্যাবের গোয়েন্দারা তদন্ত করছেন। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ট্রেনটিতে আগুন লাগে সায়েদাবাদ এলাকায়। ট্রেন পরিচালক সেটি কখন টের পেয়েছেন বা তিনি কখন চালককে এই কথা জানিয়েছেন, তা রেল পুলিশ তদন্ত করছে। ট্রেনে আগুন লাগলে চালকের তা বুঝতে কিছুক্ষণ সময় লাগে। আমরা সবকিছু তদন্ত করব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকায় আসছিল। কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছার আগে গোপীবাগ কাঁচাবাজার এলাকায় ট্রেনের একটি কামরায় আগুন দেখা যায়। গাড়িটি থামার পর আশপাশের লোকজন পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে তাতে বিশেষ কাজ হয়নি। দ্রুত আগুন পাশের কামরায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে তৎপরতা শুরু করেন।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও স্টেশনে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় মা ও শিশুসহ চারজন পুড়ে মারা যান। আহত হন আরও অন্তত একজন। তবে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধের মধ্যে গত দুই মাসে প্রায় ৩০০ যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর মধ্যে গাজীপুরে রেললাইন কেটে রাখার ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া একাধিক স্থানে রেললাইনে নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়।
আপনার মন্তব্য