নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:৩২

এরশাদ-খালেদা জিয়ার পর শেখ হাসিনাও পেলেন দুর্নীতির মামলায় সাজা

রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউকের প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুদকের করা তিন মামলায় ৭ বছর করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এজলাসে আসেন। এরপর তিনি দুদকের করা পৃথক তিন মামলায় এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলসহ আসামি রয়েছেন ২৩ জন।

এরমাধ্যমে সাবেক দুই সরকারপ্রধানের পর সদ্যসাবেক সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাও দুর্নীতির মামলায় সাজা পেলেন। কেবল তাই নয় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও ঢাকার একটি আদালত ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কারাদণ্ড দিয়েছিল। শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূসকে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা ১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে ছয় মাস করে কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে জাপান থেকে ৫২০ টি নৌযান কেনার ক্ষেত্রে ৩৩ কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগে দুর্নীতির মামলাটি হয়েছিলো ১৯৯১ সালে।

১৯৯৫ সালে নিম্ন আদালতে ঐ মামলায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে দুর্নীতির মামলার সাজা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। খালেদা জিয়ার ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। তবে আওয়ামী সরকারের পতনের পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি তাকে মুক্তি দেন, এবং পরে আপিল বিভাগ থেকে খালাস পান তিনি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার সাজা হয় এক-এগারোর সময়ের দায়ের মামলায়।

এদিকে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয় গত বছরের ৫ আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর। মামলাগুলো সবচেয়ে কম সময়ে নিষ্পত্তি হয়।

দুর্নীতির এই মামলাগুলোর সাজা ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত