০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:২৬
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বিবৃতিতে দেশের বর্তমান দুর্নীতির সার্বিক চিত্র, জনগণের ভোগান্তি এবং বিএনপির অতীত সাফল্য তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, “দুর্নীতি আজ বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মেধার ভিত্তিতে চাকরি খুঁজতে বের হওয়া তরুণ, সাধারণ সরকারি সেবা পেতে মাসের পর মাস ভোগান্তিতে থাকা কৃষক, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে পরিবারের দুর্দশা কিংবা ব্যবসা বাঁচাতে ঘুষ দিতে বাধ্য উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা—এসবই আমাদের বাস্তবতা।”
তিনি উল্লেখ করেন, “খাবারের দাম বৃদ্ধি, মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি, সড়কে নিরাপত্তাহীনতা—এসব সমস্যার পেছনেও মূল কারণ দুর্নীতি।”
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ বহুদিন ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এ লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল।” তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন, যা অনিয়ম কমাতে ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ ক্রয়নীতি চালু করেন।
তিনি আরও বলেন, “২০০৪ সালে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ছিল দেশে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বড় অগ্রগতি। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির স্বীকৃতি এবং টিআইবির জরিপে ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে জনগণ নিজেরাই দুর্নীতি কমার প্রবণতা অনুভব করেছে—এটাই তার প্রমাণ।”
বিএনপির অতীতে নেওয়া বড় পদক্ষেপগুলোর মধ্যে তারেক রহমান উল্লেখ করেন— শক্তিশালী অর্থ ব্যবস্থাপনা ও মানি লন্ডারিংবিরোধী আইন ; প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রভিত্তিক স্বচ্ছ ক্রয় নীতি ; টেলিকম, মিডিয়া, বিমান পরিবহনসহ উন্মুক্ত বাজারনীতি ; প্রশাসনে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
তারেক রহমান দাবি করেন, ‘বিএনপিরই একমাত্র দুর্নীতি কমানোর ধারাবাহিক রেকর্ড আছে।’ তিনি আগামী দিনের দুর্নীতি দমন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে— আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি সেবায় পূর্ণ স্বাধীনতা ; উন্মুক্ত দরপত্র, সম্পদ বিবরণী ও রিয়েল-টাইম অডিট ; আধুনিক পুলিশিং ও দ্রুত বিচার ব্যবস্থা ; সব লাইসেন্স–জমি–পেমেন্ট অনলাইনে এনে ঘুষের অবসান ; হুইসলব্লোয়ারদের পূর্ণ সুরক্ষা ; শিক্ষা ব্যবস্থায় সততা ও নৈতিকতা পাঠ ; ডিজিটাল ব্যয় নজরদারিতে শক্তিশালী আর্থিক পর্যবেক্ষণ।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘বহু বছরের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। জনগণ সুযোগ দিলে বিএনপি আবারও সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।’
আপনার মন্তব্য