সিলেটটুডে ডেস্ক

১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৮:০৫

ছাত্র প্রতিনিধি দুই উপদেষ্টার ১৩–১৫ মাস: আশার বদলে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগের দিন পদত্যাগ করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র–প্রতিনিধি উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

দুজনই যথাক্রমে ১৩ ও ১৫ মাস দায়িত্বে থাকলেও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বার্থের সংঘাত ও অনিয়ম—এমন একাধিক অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে বহু বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে।

 দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)  নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক, কিন্তু বাস্তবে তাঁরা সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বরং বেড়েই গেছে। গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণে তাঁরা তখন সরে দাঁড়াননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংক্ষেপে আসিফ মাহমুদের ১৫ মাসে নানা প্রশ্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু থেকেই স্থানীয় সরকার ও যুব–ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন আসিফ। মোট ২৩টি প্রকল্প অনুমোদন ও বহু অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি করলেও দুর্নীতি–অনিয়ম দমনের কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দেখা যায়নি।
তাঁর জন্মস্থান কুমিল্লার মুরাদনগরে বড় অঙ্কের প্রকল্প বরাদ্দ, ঢাকার একটি নির্বাচনী এলাকায় ২৭৩টি বিশেষ বরাদ্দ, বিতর্কিত পাঠাগার প্রকল্প, ওসমানী উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে পুরোনো ধাঁচের ব্যয়সাপেক্ষ প্রশিক্ষণ প্রকল্প—এসব বিভিন্ন প্রকল্প  নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
এ ছাড়াও ওয়াসার এমডি নিয়োগে অনিয়ম, ক্রিকেট বোর্ডে ক্ষমতাচর্চা, আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিন বহনের বিতর্ক এবং তাঁর বাবার এলজিইডির ঠিকাদারি লাইসেন্সকে স্বার্থের সংঘাত হিসেবে দেখা হয়। তাঁর নিয়োগকৃত এপিএসও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় আসে।

সংক্ষেপে মাহফুজ আলমের ১৩ মাসে নানা প্রশ্ন

প্রধান উপদেষ্টার ‘আস্থাভাজন’ হিসেবে আলোচনায় এলেও তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখযোগ্য সংস্কার বাস্তবায়নে তিনি ব্যর্থ হন। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, সরকারি বিজ্ঞাপনে স্বচ্ছতা—কোনো ক্ষেত্রেই অগ্রগতি হয়নি।

তাঁর বিরুদ্ধে অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের নামে নতুন টিভি লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রেড ক্রিসেন্টে তাঁর বড় ভাইকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও আলোচনায় আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে ক্ষমতায় আসা এই দুই উপদেষ্টা প্রত্যাশিত সংস্কার বা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁদের কাজ ‘গতানুগতিক’ এবং কোনো বড় অর্জনের উদাহরণ নেই—বরং অভিযোগই প্রাধান্য পেয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত