১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৮:৫৮
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে।
গতকাল রোববার ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর আজ তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে আদালতে তোলা হয়। রিমান্ড শুনানিতে তিনি আদালতকে বলেন, ‘আমাকে যারা নির্দিষ্ট দলের গোলাম বানাতে চায়, এটা তাদের সমস্যা।’
এ মামলায় পুলিশ আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আবেদন করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে আনিস আলমগীর বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি সাংবাদিক। আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। দুই যুগ ধরে আমি এটা করে এসেছি। আমার জব (কাজ) কারও কাছে নতজানু হওয়া না। আমাকে যারা নির্দিষ্ট দলের গোলাম বানাতে চায়, এটা তাদের সমস্যা। আমার ফেসবুকে সব বক্তব্য দিই। এখানে অপ্রকাশিত নেই কোনো কিছু। আমি ইউনূসের (প্রধান উপদেষ্টা) বাড়ি আক্রমণের কথা বলেছি। কিন্তু কোন কারণে বলেছি, ৩২–এ আক্রমণ এটা প্রতিহিংসার রাজনীতি। এটা ফিরে আসবে। সেটা বলেছি। জুলাইয়ের স্পিরিট কীভাবে বাড়বে, আমরা সেটা বলেছি। এখানে আমার ভুল কী হয়েছে, আমি জানি না। আমার সঙ্গে কারও যোগসূত্র নেই। ড. ইউনূস যদি চায়, সারা বাংলাদেশকে কারাগার বানাবে, বানাতে পারে।’
গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর আনিস আলমগীরকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে আনিস আলমগীর গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে মুঠোফোনে একটি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তাকে ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিয়ে আসা হয়। আটটার দিকে ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছান। তাকে বলা হয়, ডিবিপ্রধান তার সঙ্গে কথা বলবেন।
আজ সোমবার বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরে জানা যায়, ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ গতকাল রাত দুটার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেন। মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আনিস আলমগীর তিন দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করছেন। তিনি ইরাক যুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র সাংবাদিক হিসেবে সেখানে গিয়ে সাংবাদিকতা করে আসার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকা সাবেক সম্পাদক। তিনি এশিয়ান টিভির বার্তা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। টক শো ‘টেবিল টক’-এর উপস্থাপনাও করতেন তিনি। আনিস আলমগীর দৈনিক দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি আরটিভি ও বৈশাখী টিভির বার্তা প্রধান এবং চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া দৈনিক আজকের কাগজ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার কূটনৈতিক রিপোর্টারের দায়িত্বও পালন করেছেন আনিস আলগীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক আনিস আলমগীর সাংবাদিকতার পাশাপাশি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করে আসছেন।
গতবছরের ৫ই আগস্ট বাংলাদেশের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তিনি সরকারের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামূলক লেখালেখি ও টকশোতে কথা বলে আসছেন। তিনি জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষে ছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলেও তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তিনি লেখালেখি করেছেন, কথা বলেছেন। সাবেক সরকারের আমলেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।
আপনার মন্তব্য