২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:১৯
নানা জল্পনা কল্পনার শেষে অবশেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরছেন তিনি।
আজ বুধবার রাতেই তারেক রহমান যুক্তরাঝ্যে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন বলে জানা গেছে।
তারেক রহমানকে বরণে সিলেটেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যেঅিনেক নেতাকর্মী ঢাকায় চলে গেছেন। তব বেরিভাগই যাবেন আজ।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানা গেছে, আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টায়) লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটে দেশে আসবেন তিনি।
সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে ফ্লাইটটি সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে আসবে। সিলেটে কিছুক্ষণ যাত্রাবিরতি দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফিরবেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লন্ডন থেকে প্রথমে সিলেটে আসলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সিলেটে বিমান থেকে নামবেন না তারেক রহমান। দলীয় নেতাকর্মীদেরও সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় যেতে মানা করেছে বিএনপি। তবে তারেক রহমানের যাত্রাবিরতির কারণে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সিলেটটুডেকে বলেন, ইতোমধ্যে বিমানবন্দর এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হবে। তাছাড়া ওইদিন বিমানবন্দর এলাকায় কোন লোকসমাগমও করা যাবে না।
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ সিলেটটুডেকে বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় সবসময়ই নিরাপত্তা জোরদার থাকে। ন্তির্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের আগে আমরা সবসময়ই সর্বোচ্চ সর্ক থাকি। এবারও তার ব্যত্যয় হবে না। তার পাশপাশি যে ধরণের নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে ভিড় না করতে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
দেশে ফেরার পর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ওঠার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। তবে এখনো সেই বাড়ির সংস্কার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। যদি কাজ পুরোপুরি শেষ না হয়, তাহলে পাশে থাকা মা খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় আপাতত উঠবেন বলে জানিয়েছেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন।
উল্লেখ্য, দেশে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়া সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পান তিনি। চিকিৎসার জন্য ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা ছাড়েন তারেক রহমান।
আপনার মন্তব্য