সিলেটটুডে ডেস্ক

২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২৩:১৫

টাঙ্গাইল-৪ আসনে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা লতিফ সিদ্দিকীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলায় নিজ বাসভবনে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন লতিফ সিদ্দিকী সাবেক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “কয়েকদিন ধরে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম, নির্বাচনে অংশ নেব কি নেব না। আমি সবসময় জনগণের মতামত ও জনরায়কে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করি। কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার সাধারণ মানুষের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

“আমি মনে করেছি, দেশে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাই নির্বাচনের ঘোষণা দিলাম। আগামী রোববার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করব এবং সোমবার জমা দেব। তারপর গণসংযোগে নামব।

আওয়ামী লীগের সাবেক এ নেতার ভোট করা ঘোষণা পর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন।

ভোটারদের দাবি, কালিহাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৪ আসনে লতিফ সিদ্দিকীর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা আছে। যে কারণে বিএনপি প্রার্থী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। লতিফ সিদ্দিকীর এমন সিদ্ধান্তের পর তার অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে তাকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন।

টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী সিদ্দিকী পরিবারের পৈতৃক নিবাস কালিহাতীর নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে। স্বাধীনতা আগে, মুক্তিযুদ্ধ এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সিদ্দিকী পরিবারটি আলোচিত।

এ আসন থেকে আগেই নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, জামায়াতে ইসলামীর টাঙ্গাইল জেলার নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক ও জাতীয় পার্টির (জাপা) ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী।

এ ছাড়া নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো ও ড্যাব নেতা অধ্যাপক শাহ আলম তালুকদার।

কালিহাতীর বাসিন্দারা বলেছেন, এ আসনের জন্য লতিফ সিদ্দিকী একজন হ্যাভিওয়েট প্রার্থী। স্বাধীনতা যুদ্ধেও যেমন তার অবদান রয়েছে, ঠিক তেমন শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধেও সমালোচনা করেছেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়েছিলেন। যে কারণে বিএনপির প্রার্থী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন।

শুক্রবারের মতবিনিময় সভায় লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন। এরপর পর্যায়ক্রমে গণসংযোগ ও নির্বাচনি কার্যক্রম চালাবেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় কালিহাতী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম, অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম, আইনজীবী শহীদুল ইসলাম শহীদ তালুকদার, মোহাম্মদ আলী, আলমগীর হোসেন, গাজীউর রহমান গাজী, ঝন্টুসহ এ আসনে তার শুভানুধ্যায়ী ও অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথম ১৯৭০, দ্বিতীয় ১৯৭৩, তৃতীয় ১৯৯৬ সালে এবং চতুর্থ ২০০৯ সালে এবং পঞ্চম ২০১৪ সালে। ২০১৫ সালে ১ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসন থেকেই ষষ্ঠবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন লতিফ সিদ্দিকী। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করলে সংসদ সদস্য পদ হারান তিনি।

এ ছাড়া তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে লতিফ সিদ্দিকী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে ‘কটূক্তি’ করায় আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তিনি।

কালিহাতী উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসন গঠিত। এ আসনে ভোটকেন্দ্র ১১৪টি। মোট ভোটার তিন লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৮৯ হাজার ৯২৪, নারী এক লাখ ৮৪ হাজার ৯৬৮ এবং হিজড়া তিনজন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত