২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৪৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম চালানোর সময় দেশে ৯টি স্থানে হামলা, সংঘর্ষ এবং প্রচারে বাধা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।
নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, শরীয়তপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ প্রচারে বাধা ও সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি-জামায়াত।
জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করাকে কেন্দ্র করে পাবনায় বিএনপির সঙ্গে ব্যাপক হট্টগোল হয়।
পটুয়াখালীতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকরা পরস্পরের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন।
পাবনা সদরের বুদের হাট এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করার অভিযোগে তাদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের কথাকাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে পাল্টাপাল্টি স্লোগানে সেখানে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
পাবনা-৫ (সদর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইকবাল হোসাইন বলেন, আমাদের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছিলেন। বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দিয়ে লাঞ্ছিত করেন। বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নির্বাচন সমন্বয়কারী জহুরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা জেরা করলে জামায়াতের নারী কর্মীরা সশস্ত্র ক্যাডারদের ডেকে এনে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করে।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লা জানান, জামায়াতের মহিলা শাখার একটি দল গোপালদী মোল্লারচরে গণসংযোগে গেলে বিএনপি কর্মীরা বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। পরে শিবিরের একটি দল পাঠানো হলে তাদের মারধর করা হয়। এতে পৌর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান অর্ণবসহ আট জন আহত হন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহম্মেদ বলেন, জামায়াত প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এরা বিএনপির কেউ নন।
শরীয়তপুরের নড়িয়া ভোজেশ্বর পাইলট মোড় এলাকায় গতকাল জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, জামায়াতের একজন কর্মীর প্রতিষ্ঠানে ভোট চাইতে গেলে আমাদের ওপর হামলা হয়। নড়িয়া (পশ্চিম) উপজেলা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেন, তারা আমার প্রতিষ্ঠানে এসে আমার ও আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে সোমবার রাতে সদর উপজেলার ডুমুরইছা গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের দুটি মিছিল মুখোমুখি হলে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমাদের মিছিলে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা পেছন থেকে হামলা চালায়।
ঢাকা-৩ আসনের আব্দুল্লাহপুর স্ট্যান্ডে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগে হামলায় এনসিপির দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হৃদয় হোসেনসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শাহিনুর ইসলাম বলেন, বিএনপির নেতা সামিউল্লার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে সামিউল্লা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাতকানিয়ার ছমদর পাড়ায় বিএনপির প্রার্থীর ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে তাঁর দুই কর্মীকে মারধর করা হয়। ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাচনী কমিটির আহ্বায়ক আহমদ কবির বলেন, জামায়াতের কিছু কর্মী আমাদের দুই কর্মী শামসুল ও দেলোয়ারকে মারধর করেন। সাতকানিয়া পৌর জামায়াতের আমির হামিদ উদ্দিন আজাদ বলেন, সামান্য কথাকাটাকাটি ও হাত নাড়ানাড়ি হয়েছে বলে শুনেছি। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপির লোকজন হামলা চালিয়ে তিন নেতাকর্মীকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন আমির মোফাজ্জল হোসেন এই অভিযোগ করেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব বলেন, মারামারি বা সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, ইদলপুরে জামায়াতের নারী সদস্যরা প্রচারে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের কার্যক্রমে বাধা ও অপদস্থ করেন।
পটুয়াখালীর দশমিনার পাগলা বাজারে সোমবার রাতে বিএনপি জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের কর্মীদের সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের নির্বাচনী অফিসও ভাঙচুর করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, ঘটনা শুনে থানা পুলিশকে জানিয়েছি। নুরুল হক নুর বলেন, এসব হাসান মামুনের সাজানো নাটক।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরের কর্মীকে মারধর ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আলমগীর কবীরের রাণীনগর উপজেলা নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার উপজেলার পাকুড়িয়ায় এক কর্মীকে মারধর এবং আত্রাইয়ে নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়। রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা কোথাও মারধর বা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নয়।
আপনার মন্তব্য