২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৫৪
নির্বাচন নিয়ে দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কয়েকদিন ধরে খেয়াল করছি, দেশের ভেতরের কিছু কিছু মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঠিক যেমন ফ্যাসিস্টরা ভোটাধিকার হরণ করেছিলো, একই রকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি কুচক্রি মহল।
বৃহস্পতিবার সিলেটে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমনটি বলেন। সিলেট সুনামগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত এ সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে বিএনপি।
নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান আরও বলেন, কিন্তু ২০২৪ সালে প্রমাণ হয়েছে, দেশের মানুষ রাস্তায় নামলে কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় 'আপনারা বালা আছইন নি' বলে বক্তব্য শুরু করে তারেক রহমান বলেন, যারা একবছর আগে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে তারা মানুষের টুঁটি চেপে ধরেছিলো। বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, খুন করেছে। জেলে বন্দি করে রেখেছিলো। কিন্তু তার পরও মানুষ মাথা নত করেনি। মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছে। অসংখ্য মানুষের প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মানুষ যেভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলো, ২০২৫ সালে মানুষ রাস্তায় নেমে স্বাধীনতা রক্ষা করেছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তারা উন্নয়নের নামে দেশের সম্পদ লুট করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আগে ষিলেট থেকে ঢাকা আসা যেতো ৪/৫ ঘন্টায়। তথাকথিত উন্নয়ওেনর ফলে এখন ১০ ঘন্টা লাগে। এই সময়ে সিলেটের মানুষজন লন্ডন চলে যেতে পারে।
গত তিনটি নির্বাচনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে আমরা দেখেছি ভোটের নামে ব্যালেট ডাকাতি হয়েছে। নিশি রাতের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো।
তিনি বলেন, আমরা এসব অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। আমরা দেশের কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খাল খনন শুরু করেছিলেন। আমরা বিজয়ী হলে আবার খাল খনন শুরু করবো।
আগামী দিনের নিজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা তাদের সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সকল পরিবারকে ফ্যামেলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামেলি কার্ডকে বাস্তবায়ন করতে, কৃষি কার্ড বাস্তবায়ন করতে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
আমরা শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে চাই। বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। আমরা কাউকে বেকার রাখতে চাই।
তিনি বলেন, সিলেটের বিদেশগামী তরুণদের টেনিং ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দক্ষ মানুষদের আমরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চাই।
জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, গত ১৫/১৬ বছর এই দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে দিয়েছিলো। সেজন্য আমি বলেছি- ‘দিল্লি নয় পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’। আমি আরও বলেছিলাম - ‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’। সেই পথের আমরা অর্ধেক পেরিয়ে এসেছি। স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি। এখন বাকী অর্ধেকটা পেরোতে হবে। ভোটাধিকার আদায় করতে হবে। বাংলাদেশকে নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি। এখন ভোটের অধিকার প্রতিষ্টা করতে হবে। দেশকে গড়ে তুলতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এজন্যই আরেকটা কথা বলি, করব কাজ, গড়ব দে্শ, সবার আগে বাংলাদেশ।
সমাবেশে কারো নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, একটি দল বলছে, সব দেখছেন, এবার তাদের দেখেন। দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা দেখেছে। তাদের কারণে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে। তাদের তো মানুষ দেখেই ফেলেছে। সে জন্যই বলি- দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়।
সমাবেশ মাঠ থেকে হজ করে আসা এক প্রবীনকে মঞ্চে তুলে নিয়ে তারেক রহমান বলেন, বেহেশত ও দোজখের মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ সেটা অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। যারা বিভিন্ন টিকিট দিচ্ছে, যেটার মালিক মানুষ না, কিন্তু সেটার কথা বলে শিরক করছে। নির্বাচনের আগেই একটি দল মানুষকে ঠকাচ্ছে, এবার নির্বাচনের পর কেমন ঠকান ঠকাবে বুঝে নেন। তাদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না।
সবশেষে তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ, বিএনপি বিজয়ী আমরা নবী করিম (স.) এর ন্যায়পরায়ানতার ভিত্তিতে দেশ গড়ে তুলবো।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। এটি বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভা।
এদিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জনসভাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাঘাটে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসে চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর মানুষ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। গুম হয়েছে, খুন হয়েছে। কিন্তু মাথা নত করেনি।
ফখরুল আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের দর্শন ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশের উন্নয়ন। আজকে সিলেট থেকে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যাত্রা শুরু হলো।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দল আছে, যারা আমাদের দল, আমাদের নেতার বিরুদ্ধে নানান কুৎসা রটনা করছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। সেই দল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সেই দল কে কী আপনারা চিনেন? তারা কি ভোট পাবে?
১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনে কাঠানোর পর সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তারেক বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। বুধবার তিনি উড়োজাহাজে করে সিলেট আসার পর রাতে যান তার শ্বশুরালয়ের। এরপর বৃহস্পতিবারসকালে সিলেটের তরুণদের সঙ্গে মিলিত হন এক মতবিনিময় সভায়।
আপনার মন্তব্য