২০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫০
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ওলামা সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স (এনইউএ) দেবী দুর্গার আবির্ভাব প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে এটা প্রত্যাহার ও জাতির কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র মুফতি রফিকুল ইসলাম আইনী প্রেরিত এই প্রতিবাদলিপিতে সোমবার বলা হয়, রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির মুখ থেকে 'শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা পৃথিবীতে যখন অন্যায় নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল' এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার এবং দেশের আপামর মুসলিম জনতার কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানের দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।
এনইউএ বলছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের একজন রাষ্ট্রপতির এমন বক্তব্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মুসলমানদের ঈমানি অনুভূতিতে গভীর আঘাত করেছে। ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলাই সমগ্র সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। অন্যায়-অবিচার থেকে মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা কিংবা রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের তাও-হিদি বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
তারা বলছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন এটি তাদের অধিকার। ইসলামও অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। কিন্তু অন্য ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আর নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্যকে সমর্থন করা এক বিষয় নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য আরও বেশি দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতার দাবি রাখে।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতিনিধি নন; তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত। তার বক্তব্যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় ধর্মীয়, সামাজিক ও জাতীয় প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য।
তাদের দাবি, ধর্মীয় সম্প্রীতির অর্থ কারও বিশ্বাসের সঙ্গে অন্যের বিশ্বাসকে গুলিয়ে ফেলা নয়; পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যকে সম্মান করা। কোনো ধর্মের অনুসারীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানোর নামে ইসলামের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য ও মেনে নেওয়া যায় না।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং দেশের ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের কাছে বক্তব্যের যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায়, এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দেশের আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ নাগরিকেরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হবেন বলে সংগঠনটি জানায়।
উল্লেখ্য, উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, 'শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটেছিল। দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।' বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে। তবে প্রতিবারই বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সেই অশুভ শক্তিকে পরাজিত করেছে।
আপনার মন্তব্য