সিলেটটুডে ডেস্ক

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪১

ইশরাকের পাশে জামায়াত আমির, অস্ত্র প্রদর্শনের মাঝে দেখছেন ‘ভালো নিয়ত’

ছবি: সংগৃহীত

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে প্রকাশে পিস্তল উঁচিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনকে ‘ভালো নিয়ত’ হিসেবেই দেখছেন।

জামায়াত আমির বলছেন, ‘তার (ইশরাক) কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি, একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে যদি প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করেন বা কাউকে এটা দিয়ে তাক করেন তাহলে তিনি হয়তো ভালো নিয়তে করেছেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। এরা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ব্যবহার করবে। বিষয়টি যদি আপনি সিভিল অ্যাটিচিউড থেকে নেন, তাহলে আপত্তির জায়গাটি শুধু এটুকুই। তার কাজের ব্যাপারে আপত্তি করার কিছু নেই।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সাবেক সাথি-সদস্য সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। এর আগে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমার পক্ষ থেকে ইশরাকই বলে দিছে।’

এর আগে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় গত শনিবার মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়েন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগের কথা জানিয়ে ইশরাক বলেছেন, বিএনপি ও সরকারকে ‘বিব্রতকর’ পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অভিযানে কোনো ভুল করেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

পদত্যাগ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেখেন, এটা তাদের (বিএনপির) একটা দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তারপরে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটা বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী এটা চেয়েছেন, এই জন্য সে পদত্যাগ করেছে। মাদক তো সমাজকে শেষ করে ফেলতেছে। তার যেটা করা দরকার ছিল, সে বলেছে যে সেখানে পুলিশ ছিল, ফোর্স ছিল। তাঁর হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো। এতটুকু।’

এর আগে সাবেক সাথি-সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেননি। জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ ও মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক চাকসু সহসভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার এবং ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত