২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০১
ছবি: সংগৃহীত
মব সৃষ্টি করে কার্যালয়ে ঢুকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরকে মারধরের ঘটনায় বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি তার প্রাথমিক সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ড্যাব মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিসে বলা হয়েছে, আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে আইইডিসিআর পরিচালকের কক্ষে অপ্রীতিকর ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জাহিদের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—জানতে চেয়ে তাকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাব সভাপতি ও মহাসচিব বরাবর যথোপযুক্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে নোটিসে।
এর আগে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের কক্ষে ঢুকে এক দল ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ড্যাব কর্মীরা তাকে মারধর করেছেন।
অধ্যাপক জাকিরকে মারধর করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অধ্যাপক জাকির নিজ কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় কয়েকজন হঠাৎ কক্ষে ঢুকে তাকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর শুরু করেন। ওই কক্ষে থাকা ব্যক্তিরা বাধা দিলে তারা বেরিয়ে যান।
বিএনপি সরকারের আমলে আইইডিসিআরের পরিচালক পদে নিয়োগ পান অধ্যাপক জাকির। নিজ কার্যালয়ে ড্যাব সদস্যরা মব সৃষ্টি করে তাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করলেও কেন তাকে মারধর করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিজ অফিসে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে কাজী আহমেদ জাকিরের একটি বৈঠকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সেখানে যান ড্যাব সদস্যরা। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনা মহামারির সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আলোচনায় আসেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের পরিচালক ছিলেন।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের নিন্দা
কার্যালয়ে অধ্যাপক জাকিরকে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার মতে, এটি বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে এক ‘কালো অধ্যায়’।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘আইইডিসিআর-এ যে ঘটনা ঘটেছে, সমাজের একটি বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষিত সমাজেও যদি এই ধরনের মব স্পষ্ট দিবালোকে বেপরোয়াভাবে তৈরি করা হয়, তাহলে ভাবা যায় দেশ কোন পথে?’ ড্যাবের কর্মীরা ‘মব’ সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটের ক্ষত এখনো তাজা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সরকারি দলের চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতা কর্মীরা আজকে যে ঘটনা ঘটালেন, তা বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় রচনা করলেন।’
জামায়াত আমির এই ঘটনাকে ‘সীমালঙ্ঘন, ধৃষ্টতা ও অপরাধমূলক কাজ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি জানান, সুষ্ঠু তদন্ত করে এর বিচার হতেই হবে। তা না হলে ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা কোনো অবস্থায়ই উঠে দাঁড়াতে পারবে না।
আপনার মন্তব্য