২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:২০
জগন্নাথপুরের কেশবপুরে রাধাররমণ দত্তের সমাধি মন্দির। ছবি সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘গানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে’ উল্লেখ করে বাউল গানের আসর নিয়ে আপত্তির পর এবার জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর সদরের কেশবপুর বাজারে গানবাজনাসহ অনৈসলামিক কার্যকলাপ বন্ধের আবেদন করা হয়েছে।
এমন দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন কমিটির সদস্যরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ইউএনও’র কাছে এ আবেদন করা হয়। এতে কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় গানবাজনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে স্থানে গানবাজনাসহ অনৈসলামিক কার্যকলাপ বন্ধের আবেদন করা হয়েছে সেখানে, অর্থাৎ জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে মরমী সাধক কবি রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থল। তিনি বাংলা লোকসংস্কৃতিতে ধামাইল গান ও ধামাইল নৃত্যের প্রবর্তক। প্রতি বছর সেখানে বাউল গানের আসর বসে।
আবেদনে স্বাক্ষরকারীরা জানান, কবরস্থানের পাশে কবি রাধারমণ দত্তের নামে কিছু ব্যক্তি গানবাজনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ ধরনের কার্যক্রমকে তারা অনৈসলামিক বলে মনে করছেন। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে এই গানবাজনার আয়োজন বন্ধের জন্য ইউএনওর কাছে আবেদন জানাচ্ছেন তারা।
আবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা কাদির মিয়া, রফিক মিয়া, মো. তৈয়মুছ আলী, আনকার মিয়া, খালেদ মিয়া, সোহেল মিয়া, মো. রফিকুল মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আবু মিয়া, রফিক আলী, দিলা মিয়া, ওয়াহিদ মিয়া, এখলাক মিয়া, আবু তাহের, আওলাদ মিয়া, তারেক মিয়াসহ অনেকেই স্বাক্ষর করেছেন।
আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে উল্লেখ করা হয়, কবরস্থান সংলগ্ন স্থানে গানবাজনা হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জনস্বার্থে ওই স্থানে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইউএনওর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন মঙ্গলবার বিকালে বলেন, ‘আসলে গানবাজনা বন্ধের আবেদন করা হয়নি। তারা একটি চিঠি দিয়ে বলেছেন, কেশবপুর গ্রামের কবরস্থানের পাশে যেন গানবাজনার আয়োজন করা না হয়। কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় সবার সঙ্গে কথা বলে কবি রাধারমণ দত্তের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। যেন আরও সুন্দর সুপরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে দিরাইয়ে ‘গানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে’ উল্লেখ করে নারী শিল্পীদের নিয়ে একাংশের আপত্তিতে বাউল গানের আসর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সীমিত পরিসরে গানের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকত আলীর বাড়িতে এ আয়োজন করা হয়। হাতিয়া গ্রামের পাশের তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামেই প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের বাড়ি।
ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় দুই নারী শিল্পীর গান গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার স্থানীয় দুজন বাসিন্দা নারীদের গান নিয়ে আপত্তি তুলে আয়োজন বন্ধ করার জন্য দিরাই থানায় আবেদন করেন। থানা পুলিশ শওকত আলীর সঙ্গে কথা বললে ‘গান হবে না’ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত রাতে সীমিত পরিসরে গান হয়েছে।
আপনার মন্তব্য