২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। পরে তাকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আমলি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তাহিরপুর থানার ওসি মো. ফারুক আহমদ জানান।
তিনি বলেন, সোমবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে একদল লোকের বিক্ষোভের মুখে সোমবার দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রাম থেকে কৃপেশ চন্দ্র রায়কে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এর আগের রাতে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
কৃপেশের ভাষ্য, তার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ফেইসবুকে অবনানকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে ‘kripash ray’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ পোস্ট ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা হয়।
এরপর মধ্যরাতে তাহিরপুর থানায় গিয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন কৃপেশ রায়।
সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তার নামে ফেসবুকে আইডি খুলে, তার পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে ওই ‘সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক’ প্রচার চালানো হচ্ছে।
এদিকে কৃপেশ রায়কে গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে এলাকায় বিক্ষোভ-মিছিল শুরু করেন একদল লোক।
খবর পেয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ রাজারগাঁও ছুটে যান। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কেউ যাতে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পরে পুলিশও ওই গ্রামে যায় এবং বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে কৃপেশকে হেফাজতে নেয়।
কৃপেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু বছর খানেক ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কৃপেশ রায়ের প্রতিবেশী কাঞ্চন রায় বলেন, “কৃপেশের মূল ফেসবুক আইডিতে আমি আছি। যে আইডি দিয়ে সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে সেটা থেকে আমাকেসহ অনেককে রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছিল। গতকাল (রোববার) ওই আইডি থেকেই আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। পরে রাতে কৃপেশ থানায় জিডি করেন।”
কৃপেশের চাচাতো ভাই কিরণ রায় বলেন, কৃপেশ সিলেট লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কনেস্টেবল হিসেবে কাজ করতেন। বছরখানেক ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তবে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমদ বলেন, “কৃপেশের জিডির বিষয়টি আমলে নিয়ে আইডির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ শুরু হয়েছে।”
তিনি বলেন, “কৃপেশ পুলিশের গরহাজির সদস্য। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। তার জিডির বিষয়টিও তদন্ত করা হবে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, “কৃপেশ সিলেট মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে বাড়িতে ছুটি নিয়ে আসার পর আর যোগদান করেননি। কৃপেশ রায়ের দাবি ও তার জিডির বিষয়টি ধরে পুলিশ এই আইডির প্রকৃত পরিচয় উদ্ধার করতে কাজ করছে।”
আপনার মন্তব্য