নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ, ২০১৬ ১০:৫৯

আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার রাতে ওই কলেজছাত্রী নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে গত সাত দিন ধরে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দিদশা থেকে পালিয়ে এসে সে মিঠাপুকুর থানায় মামলা দায়ের করে। এর পর থেকে পুলিশ হেফাজতে থাকা ওই ছাত্রীকে খুন করার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাকে পাগল সাজানোর যড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ধর্ষিতার মেডিকেল টেস্ট শনিবার করার কথা থাকলেও তা হয়নি। শনিবার ধর্ষিতা ছাত্রীটি এই প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।

মামলার অভিযোগ ও ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার বাবা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। মা গৃহিনী। তাদের বাড়ি মিঠাপুর উপজেলার শীতলগাড়ী নয়াপাড়া গ্রামে।

স্থানীয় একটি কলেজের অধ্যয়নের সময়ে মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

এর পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ সুযোগে ওই ছাত্রীকে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন প্রথম উপজেলা পরিষদের অফিস কক্ষে ধর্ষণ করে। এর পর রংপুর পর্যটন মোটেল, বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের গেস্ট হাউস এবং ওই নেতার শঠিবাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

সম্প্রতি ওই ছাত্রী তাকে বিয়ের জন্য বললে জাকির তা অস্বীকার করে। এর পর তাকে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। তার বাবা-মায়ের আর্থিক অচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দেয়া হয়।

এছাড়া এ নিয়ে জানাজানি করলে তার বাবার সরকারি চাকুরি থেকে বরখাস্ত করারও হুমকি দেয় ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

এরপরও ওই ছাত্রী অন্যত্র বিয়ে করতে রাজি না হলে তার বাবা-মাকে ডেকে জাকির হুমকি দিয়ে বলেন, তাকে যেন বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া না হয়। এ ঘটনা যেন বাইরের কেউ জানতে না পারে। এজন্য ওই ছাত্রীর বাবাকে তিন লাখ টাকা দিয়ে তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য বলা হয়। এছাড়াও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়।

এ অবস্থায় ছাত্রীর পরিবার গত ১৯ মার্চ থেকে তাকে বাড়িতে বন্দি করে রাখে। বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি।

গত শুক্রবার ২৫ মার্চ সে বাড়ির লোকজনকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে থানায় আসার সময় ওই আওয়ামী লীগ নেতার লোকজন তাকে আটক করার চেষ্টা করে।

পরে সে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় মিঠাপুকুর থানায় আসে। সেখানে রাতেই পুলিশের কাছে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করে অভিযোগ দিলে পুলিশ তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। মামলা নম্বর-৪৬।

ওই ছাত্রী মামলার বর্ণনায় তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ এবং কোন কোন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত তা উল্লেখ করেছেন। তাকে এখন মিঠাপুকুর থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন রেজা জানান, চিকিৎসক না থাকায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তারা মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষা করাতে পারেননি। তবে রোববার তা করাবেন। মামলার অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্ত জাকির হোসেন বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ। তবে কারা তার বিরুদ্ধে এ কাজ করছেন তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। সুত্র: যুগান্তর অনলাইন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত