২৭ মার্চ, ২০১৬ ২০:৪৫
বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) পদ্ধতিতে মোবাইলফোনের সিম নিবন্ধনে গ্রাহকের ভোগান্তি হচ্ছে কিনা তা সরেজমিনে দেখতে ‘পরিচয় গোপন’ করে রাজধানীর একটি গ্রাহক সেবাকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এ সময় প্রতিমন্ত্রী তার নিজের একটি সিম নিবন্ধন করেন।
রবিবার দুপুরে তিনি রাজধানীর ফার্মগেটের গ্রামীণফোন সেন্টারে যান। তার আগে তিনি কেন্দ্রটির অদূরে গাড়ি থেকে নেমে আঁচল ও ফাইল দিয়ে মুখ ঢেকে হেটে কেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন এবং সিম নিবন্ধনে আগত গ্রাহকদের লাইনে দাঁড়ান। এ সময় চারদিকে তাকিয়ে তিনি গ্রাহকদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেন। নিজের পালা এলে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং আঙুলের ছাপ দিয়ে নিজের নামে ফোনটির নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। মুখ ঢেকে রাখায় এ সময় তাকে কেউ চিনতে পারেনি। গ্রামীণফোন সেন্টারের কর্মীরাও জানান, তারা বুঝতে পারেননি মন্ত্রী সিম নিবন্ধন করতে এসেছেন।
সিম নিবন্ধন শেষে তারানা হালিম মুখের কাপড় সরিয়ে কেন্দ্রটির এক পাশে এসে দাঁড়ান। এ সময় কেন্দ্রটিতে আসা গ্রাহকরা তার কাছে তাদের সমস্যার কথা জানান। একজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, তার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র এখনও পাননি। তিনি কীভাবে সিম নিবন্ধন করবেন? প্রতিমন্ত্রী উত্তরে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করলে একটি আবেদন নম্বর দেওয়া হয়। ওটা দিয়ে আবেদন করা যাবে, তবে পরিচয়পত্রটি যখন হাতে পাওয়া যাবে তখন আবারও নিবন্ধন করতে হবে।
পরিচয় গোপন করে গ্রাহক সেবাকেন্দ্র পরিদর্শন সম্পর্কে তারানা হালিম বলেন, আমি একজন সাধারণ মানুষের বেশে সিম নিবন্ধন করতে এসেছি। আমি বুঝতে চেষ্টা করেছি একজন সাধারণ গ্রাহক সিম নিবন্ধন করতে এসে কি কি প্রশ্নের মুখোমুখি হন, কি সমস্যা মোকাবিলা করেন সেসব। কোনও ধরনের হয়রানি হয় কিনা সেসবও বোঝার চেষ্টা করেছি।তারানা হালিম এ সময় জানান, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তারা আপাতত পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি দিয়েও সিম নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে এটি অস্থায়ীভিত্তিতে। জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পেলে অবশ্যই তখন আবারও সিম নিবন্ধন করতে হবে। আর বিদেশিদের সিম নিবন্ধনে জাতীয় পরিচয়পত্রের বদলে পাসপোর্ট ব্যবহার করে তা নিবন্ধন করা হবে।
এসময় আরেকজন গ্রাহক তারানা হালিমের কাছে অভিযোগ করেন, ঢাকার বাইরেও খুচরা সিম বিক্রেতারা সিম নিবন্ধনে টাকা নিয়ে থাকেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, আপনারা তাদের কোনও টাকা দেবেন না। টাকা নেওয়ার কোনও সুযোগ তাদের নেই। আপনারা কঠোরভাবে প্রতিবাদ করবেন।
গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে তারানা হালিম গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমার ব্যক্তিগত সিম তিনটি। একটি সিম সঙ্গে ছিল। সেটিরই নিবন্ধন করতে পেরেছি। সিম নিবন্ধনে ‘সিমসহ’ উপস্থিত থাকার নিয়ম রয়েছে। আমার সঙ্গে না থাকায় ওই সিম দুটির নিবন্ধন করতে পারিনি। এজন্য আমাকে আরেকদিন আসতে হবে। তিনি কেন্দ্রটিতে গ্রাহকদের সিম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই সবাইকে সিম নিবন্ধন করতে হবে। এই সময়ের পরেও যারা সিম নিবন্ধন করবেন না তাদের সিম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। হতে পারে তা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত। ওই বন্ধ থাকা অবস্থায়ও যদি কেউ তার সিমটির নিবন্ধন সম্পন্ন না করেন তাহলে তা একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ২০ সিম নিবন্ধন করা যাবে। করপোরেট সিম নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, করপোরেট (প্রাতিষ্ঠানিক) হলেও তা কোনও ব্যক্তির নামেই নিবন্ধন করতে হবে। কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি ওই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেলেও যেন সিমের মালিকানা তার নিজের থাকে।
তিনি প্রশ্ন করেন, আমি যদি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী না হই তাহলে ভয় কিসের? নিজের সিমের মালিকানা নিশ্চিতের জন্য নিবন্ধন করতেই হবে।
আপনার মন্তব্য