০৮ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:৩১
খুন হওয়া অনলাইন এক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদের লন্ডন-প্রবাসী বড় ভাই শামিম উদ্দিন বলেছেন, অসুস্থ মাকে দেখতে ঢাকা থেকে সিলেটে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন সামাদ। যাওয়ার পথেই তিনি খুন হন।
শামিম বলেন, "আমাদের বাবা নাই, আমরা দুই ভাই লন্ডনে। দুই বোন এবং অসুস্থ মাকে দেখাশোনার জন্য তার ওপরই আমরা ভরসা করতাম।"
ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য কাকে দায়ী করেন তিনি? এই প্রশ্নে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শামিম উদ্দিন বলেন, "যারা মেরেছে তাদেরই দায়ী করবো...ইসলাম তো নষ্ট হয় না, মানুষ নষ্ট হয়।"
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেন শামিম।
বুধবার ঢাকায় খুন হন সামাদ। শুক্রবার সকালে বিয়ানীবাজারে গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
শামিম উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে লেখালেখি না করতে প্রায়ই তাকে বারণ করতেন তিনি।
"সে ঠিক কি লিখতো আমি নিজে কখনো পড়িনি, কিন্তু আত্মীয়দের মুখে শুনেছি সে ধর্ম নিয়ে লিখতো। টেলিফোনে কথা হলেই নিষেধ করতাম"।
পরিবারের চাপে ফেসবুক একাউন্ট কিছুদিন বন্ধও রেখেছিলেন নাজিমউদ্দিন।
তবে বড় ভাইদের কাছে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কখনো তেমন কোনো শঙ্কা প্রকাশ করেননি ।
সামাদ কোনো ব্লগ সাইটে নিয়মিত লেখালেখি করতেন না। তার লেখালেখি ছিল মূলত তার ফেসবুক পাতায়।
ফেসবুকে সাম্প্রতিক তার কিছু স্টেটাসে দেখা গেছে ধর্মান্ধতা এবং ইসলামের কট্টর ব্যাখ্যা নিয়ে খোলাখুলি সমালোচনা রয়েছে। অনেক লেখায় জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।
মার্চের ২৮ তারিখে একটি স্টেটাসে নাজিমুদ্দিন লিখেছিলেন, " রাষ্ট্রধর্ম দেখে কেউ করিস না ভয়, আড়ালে তার ইসলামী জঙ্গি হাসে।" ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করার বিরুদ্ধে পিটিশনটি সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি সম্ভবত এই স্টেটাসটি লিখেছিলেন।
সিলেটে বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ নামে একটি সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন সামাদ। এছাড়া, সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের সাথেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
আপনার মন্তব্য