১০ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:২৪
সংস্কৃতমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ‘দেশে এখন পরীক্ষার্থী আছে সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থী নেই। সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ আমরা তৈরি করতে পারছি না। সংস্কৃতি চর্চা এবং বিজ্ঞান চর্চার জন্য আমাদের অভিভাবকরা সন্তানদের উপর্যুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছে না।’
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে বিজ্ঞান সংগঠন স্টারট্রেক ড্রিমের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন বোস ও ড. কাজী মোতাহার হোসেনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন, প্রিমিয়ার শো ও প্রকাশনা উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘অভিভবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদের শুধু পরীক্ষায় পাস করাতে চায়। দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও সেভাবে বিজ্ঞান চর্চা বাড়ছে বলে যাবে না। সাধারণভাবে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এ সমস্যা সমাধানে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি।’
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গুগল ব্যবহার করে আপনি তথ্য পেতে পারেন কিন্তু আপনি জ্ঞানী হতে পারেন না। কম্পিউটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সবকিছু আমাদের সৎভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
ড. প্রকৌশলী মঞ্জরুল হকের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ছায়ানট সভাপতি ও রবীন্দ্র সংগীত বিশেষজ্ঞ ড. সনজীদা খাতুন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম চৌধুরী।
ড. সনজীদা খাতুন বলেন, ‘আমার পিতা কাজী মোতাহার হোসেন প্রথম ব্যক্তি যিনি দেখতে পেয়েছিলেন একদিন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হবে। ১৯৪৭ সালে ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রবন্ধে তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার জন্য যদি এভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় তাহলে এই দুই প্রান্ত এক থাকতে পারবে না।’
ড. নঈম চৌধুরী বলেন, ‘বিজ্ঞানী সত্যেন বোস ও ড. কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞানের আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ। ১৯২৪ সালে সত্যেন বোস বিজ্ঞানী আইনস্টানের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা পেপার প্রকাশ করে বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছেন।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- রুশো তাহের। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- রাজনীতিবিদ শেখর দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক এম সৈয়দ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদ প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য