সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ এপ্রিল, ২০১৬ ১৫:৪২

পহেলা বৈশাখে লাঠি-তলোয়ারে ঠেকানো হবে জঙ্গি হামলা

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অজয় রায় বলেছেন, 'পহেলা বৈশাখে রাজধানীর মৎস্য ভবন থেকে রমনা বটমূল ও শাহবাগ থেকে টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নাগরিক নজরদারী করা হবে। এবং প্রয়োজনে লাঠি ও তলোয়ার হাতে প্রতিহত করা হবে যে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলা।'

রোববার জাতিয় প্রেস ক্লাবে ‘নারীর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ আন্দোলন’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনটির প্রথম কাজ হিসেবে পহেলা বৈশাখে নাগরিক নজরদারীর ঘোষণা দেয়া হয়।

এসময় অজয় রায় বলেন, ‘ব্লগার নাজিমুদ্দিনই হোক এদেশে জঙ্গিদের শেষ আক্রমনের শিকার। আর কোনো ব্লগারকে আমরা হত্যা হতে দেব না। পহেলা বৈশাখে আমরা সমমনা ছাত্র-শিক্ষক সকলে স্বেচ্ছাসেবক হয়ে নজর রাখবো। প্রয়োজনে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় সম্মিলিতভাবে আমরা হাতে লাঠি আর তলোয়ার তুলে নেব।’

তাহলে কি মসির চেয়ে আজ অসিই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে এ শিক্ষক বলেন, ‘৭১ এ যেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো পাকবাহিনীর হিংস্রতার বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়ার ঠিক তেমনই সময় এসেছে জঙ্গিবাহিনীর বিরুদ্ধে সকলের অস্ত্র হাতে নেয়ার।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে নারী নির্যাতন, যৌন সন্ত্রাস এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নারীর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনের সমন্বয়ে এবং তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়েছে নারীর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ আন্দোলন একটি জাতীয় পর্ষদ। নারীর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ আন্দোলন প্রথম কার্যক্রম হিসেবে আসছে পহেলা বৈশাখে রাজধানীর মৎস্য ভবন থেকে রমনা বটমূল ও শাহবাগ থেকে টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নাগরিক নজরদারী করা হবে।

সকলের মধ্যে সচেতনতনা বৃদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এবং সর্বোপরি নারীর জন্য নিরাপদ পহেলা বৈশাখের জন্য এই নাগরিক নজরদারী কার্যক্রম সফল করতে প্রশাসনসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয় এ সংবাদ সম্মেলন থেকে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভুভুজেলা নিষিদ্ধের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বিকেল ৫টা পর্যন্ত উৎসবের সময় শিথিলের সরকারি ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, বৈশাখী উৎসবের সময় শিথিল করে রাষ্ট্র নিরাপত্তায় অক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। সময় বেঁধে বর্ষবরণ উৎসব হতে পারে না। আমরা চাই সময়ের শিথিলতা প্রত্যাহার করা হোক। আমরা চাই সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিতে সক্ষম একটি রাষ্ট্র।

এ সময় পহেলা বৈশাখের নাগরিক নজরদারীকে সফল করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশপ্রশাসনসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। আর কর্মসূচি হিসেবে, আগামী ১২ এপ্রিল বিকেল ৫টায় প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত শোভাযাত্রা এবং সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগে সাংস্কৃতিক সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মানবাধিকার নেত্রী শারমীন মুরশিদ।

অন্যদের মধ্যে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের পক্ষ থেকে ম. হামিদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাকিবউদ্দিন অহমেদ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী, সংস্কৃতিজন শাহরিয়ার সালাম, সঙ্গীতা ইমাম, ইফতেখার আহমেদ ও ছাত্র নেতা আল জাহিদ প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত