সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ মে, ২০১৬ ১৪:২২

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের দুই মামলায় সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

আলোচিত সাত খুনের দু’টি মামলায় সোমবার সাত জনের সাক্ষ্য গ্রহণের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আগামী ৯ মে দুটি মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

খুনের ঘটনায় করা দুটি মামলায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের বন্ধু নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম, পুলিশসহ সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

 

আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে র‍্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

পরে মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীদের জেরা করেন। এ নিয়ে এ দুটি মামলায় ৩৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলো। 

সরকারি কৌঁসুলি ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম, জয়দেবপুর থানার এএসআই রিয়াজুল হক, স্বপনের গাড়ির জব্দ তালিকার সাক্ষী আনোয়ার হোসেন ও মোক্তার হোসেন, কনস্টেবল বদরুল আলম, ফতুল্লা মডেল থানার তৎকালীন এসআই ওয়াহিদুজ্জামান ও কনস্টেবল সেলিম মিয়া আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা মামলার বিচার কার্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে অপর তিন সাক্ষী মাধব কুমার দে, এনায়েত হোসেন ও সবুর মোল্লা সাক্ষ্য দিতে আসেননি। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে ৯ মে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন। 

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম আদালতে তাঁর স্বামীসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী দিয়েছেন। মোর্শেদা বেগম আদালতে জানান, নূর হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁর স্বামী স্বপন এবং নজরুলকে হত্যার হুমকিধমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি আদালতে তাঁর স্বামী হত্যার বিচার চেয়েছেন।

আসামি তারেক সাঈদ মোহাম্মদের আইনজীবী সুলতানুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের আসামিরা যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা সাক্ষীরা আদালতে প্রমাণ করতে পারেননি।’ 

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
 
তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেয়ায় এবং প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেয়ায় ‘নারাজি’ আবেদন করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি। আবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালতে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির ‘অধিকতর তদন্ত’ করতে পারে এবং ‘হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার’ ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে।
 
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনো ১২ জন পলাতক রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত