নিউজ ডেস্ক

০৬ মে, ২০১৬ ২১:২৩

'সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের দায় সরকারকে বহন করতে হবে'

ফাইল ছবি

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অকল্পনীয় নির্যাতন হচ্ছে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। 

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী এসব কথা বলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের দাবি, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, সম্পদ দখল, মন্দির-মূর্তি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, খুন-ধর্ষণের ঘটনা অহরহ ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনারই বিচার হয়নি। সেজন্য এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা এসব ঘটনা ঘটলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিকার হয়নি, বরং বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়েছে। ফলে, প্রকৃত দোষীরা শাস্তি কিংবা বিচারের আওতায় আসেনি। ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিচারহীনতার কারণে হতাশা ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনাতিপাত করে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত কয়েক মাসের ঘটনায় দেখা যায়, সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালীরা বহু ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সরকার যেহেতু দেশ পরিচালনা করছে, সুতরাং সব দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’

এ সময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের এ আহ্বায়ক সরকারের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ফরিদপুরে ‘জমিদার বাড়ি দখলের ঘটনা’, ঠাকুরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য দবির উদ্দিনের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ‘জমি দখল’, পাবনার সাথিয়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর পৃষ্ঠপোষকতায় ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’সহ দেশব্যাপী বিভিন্ন অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান গৌতম চক্রবর্তী।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের ব্যবস্থা না করলে সংগঠনের নেতাদের বর্ধিত সভা করে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হতে পারে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের নেতা জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, অ্যাডভোকেট জন গোমেজ, অমলেন্দু দাস অপু, সুশীল বড়ুয়া, নকুল সাহা, উত্তম সরকার, মিল্টন বৈদ্য, পার্থদেব মণ্ডল, সজীব মজুমদার, অপূর্ব হালদার প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত