২৬ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৫:৫৭
বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে জাতীয় কমিটির ডাকা বৃহস্পতিবারের আধা বেলা হরতাল চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তাকে থানায় বেধড়ক পেটানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবদুল আলিম। আলিম এটিএন নিউজে কর্মরত।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) হরতাল শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিতে সমর্থনকারী বামপন্থি বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন সকালে শাহবাগ মোড় অবরোধের চেষ্টা করে। এসময় তাদেরকে লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও গরম পানি ছুড়ে হটিয়ে দেয় পুলিশ। এরপর দফায় দফায় চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দেড়টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে থেকে দুইজনকে আটক করে থানার ভেতরে নিয়ে যায় পুলিশ। বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের ক্যামেরাম্যান আব্দুল আলিম ওই ঘটনার ভিডিও করতে থানায় যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তার ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করেন। তিনি পুলিশকে তার পেশাগত পরিচয় জানানোর পরেও পুলিশ তার পিঠ ও মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে।
আহত আব্দুল আলিম সাংবাদিকদের বলেন, "আমি সাংবাদিক বলার পরও পুলিশ আমাকে গেটের মধ্যে নিয়ে মারধর করেছে। তাদের বাধা দিতে গেলে আমাদের রিপোর্টার ইশান দিদারকেও পিটিয়েছে পুলিশ।"
এটিএন নিউজের এসোসিয়েট হেড অব নিউজ প্রভাষ আমিন তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে লিখেন, ‘এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন আব্দুল আলিমকে পুলিশ শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে পেটাচ্ছিল। বাধা দিতে গেলে রিপোর্টার ইশান দিদারকেও পিটিয়েছে পুলিশ। ২০/৩০ জন পুলিশ মিলে এই দুই সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়েছে। এখন তাদের ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়েছে। আমাদের ক্যামেরাম্যান বা রিপোর্টার যদি বেআইনি কিছু করে থাকে, পুলিশ তাদের আটক করতে পারতো। এমনও নয় রাস্তায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মাঝখানে পড়ে তারা মার খেয়েছে। ঠাণ্ডা মাথায় থানার ভেতরে নিয়ে ২০/৩০ জন মিলে দুইজন নিরস্ত্র সাংবাদিককে পিটিয়েছে। কেন? এই প্রশ্নের জবাব অবশ্যই চাই।’
এদিকে, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি এসময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন।
আপনার মন্তব্য