২৭ মার্চ, ২০১৭ ১৪:২৮
গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার আপিলের রায়ের জন্য আগামী ২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৭ মার্চ) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম।
২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে তার বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
মামলার নথিপত্র ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে আসে। পরে প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। গত বছরের ৩১ অক্টোবর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায়ের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা গণজাগরণ আন্দোলন কর্মী ছিলেন রাজীব হায়দার। আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন কালশীর পলাশনগরে নিজ বাড়ির সামনে ব্লগার রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় তাঁর বাবা নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন।
২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি এ মামলায় জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ মামলায় মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ সাত আসামি কারাগারে আটক আছেন। ২৮ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহমেদ ৩১ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ফয়সাল বিন নাইম ও রেদোয়ানুল আজাদ রানা নামে দুজনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। মাকসুদুল হাসান অনিক নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এহসান রেজা রুম্মান, নাইম শিকদার ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে এবং সাদমান ইয়ানির মাহমুদকে তিন বছর এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীম উদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
রাজীব হত্যাকাণ্ডে জড়িত আটজনকে আদালত বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি দিলেও একমাত্র পলাতক অবস্থায় আছে রানা। সে কোথায় সে খবরও জানে না পুলিশ, গোয়েন্দা সহ সরকারের কোন বাহিনীই। তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য