সিলেটটুডে ডেস্ক

০১ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:০৪

ভ্রাম্যমাণ আদালতকে আরও দুই সপ্তাহ সময়

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মৌখিকভাবে দুই সপ্তাহের সময় আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চে তাকে লিখিত আবেদন করতে বলে সময় মঞ্জুর করেন।

এ নিয়ে পঞ্চম দফায় রায় স্থগিতের সময় বাড়ানো হল। এর আগে গত ১৮ জুলাই অ্যাটর্নি জেনারেলের আবেদনে সময় বাড়িয়ে দিয়েছিল আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার মামলাটি আপিল বিভাগের কার্যর্তালিকায় এলে অ্যাটর্নি জেনারেল মৌখিকভাবে রায় স্থগিতের সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, “ঠিক আছে সময় দিয়ে দেব, আবেদন নিয়ে আসেন।”

তিনটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ ও ২০১২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১১ মে ওই রায় দেয়।

২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি ধারা-উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাই কোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, এ আইন বিচার বিভাগের স্বাধীনতারও পরিপন্থি।

রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে বিষয়টি গত ২১ মে আদালতে ওঠে। অ্যাটর্নি জেনারেল ওইদিন শুনানি ছয় সপ্তাহ পেছানোর আবেদন করলে আপিল বিভাগ ২ জুলাই শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে ওই সময় পর্যন্ত হাই কোর্টের রায় স্থগিত করে দেয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও চার দফা বাড়ানো হয়।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাস করে তা আইনে পরিণত করে। এরপর থেকে এটি ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন নামে পরিচিত।

এ আইনের ৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনের ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯ ও ১০ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পদ্ধতি, ১১ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা ও ১৩ ধারায় আপিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। আর ১৫ ধারায় তফসিল সংশোধনে সরকারের ক্ষমতার বিধান রয়েছে।

রায়ের সার-সংক্ষেপে হাই কোর্ট বলে, “ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের এসব ধারা মাসদার হোসেন মামলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে সংবিধানের মৌলিক দুটি স্তম্ভ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থি। তাই এ ধারাগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হল।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত