২০ আগস্ট, ২০১৭ ১৯:৪০
বন্যা পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতেই গণজাগরণ মঞ্চের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
রোববার বিকেলে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন। বন্যার্তদের সাহায্যের আবেদন জানিয়ে শাহবাগে আহুত মানববন্ধনে হামলার প্রেক্ষেতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ।
এতে ইমরান ছাড়াও শিক্ষাবিদ ড. অজয় রায়, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, ডাক্তার নাজিমুদ্দিন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুম্মন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এর সভাপতি জিলানী শুভ প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডঃ অজয় রায় বলেন, "এই হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। আমি বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, আপনি সরকারি গুদাম থেকে কিছু খাদ্যদ্রব্য ও বস্ত্রাদি দিয়ে এই হামলাকারীদের দুর্গত এলাকায় পাঠিয়ে দিন। এতে একটি সুবিধা হবে এদের শরীরে জমা মেদ আর গুন্ডামি করে ঝরাতে হবে না, অন্যটি হলো বানভাসি মানুষের দুঃখকষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।"
মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির প্রশ্ন রাখেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একদিকে ত্রাণ বিতরণে যাচ্ছেন, অন্যদিকে তার ছাত্রসংগঠন বন্যা নেই বলে আমাদের উপর হামলা চালাচ্ছে, কেন এই স্ববিরোধীতা?"
সম্মেলনের মূল বক্তব্য পাঠ করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। তিনি বলেন, ''সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এবারের বন্যা পরিস্থিতি ১৯৯৮ সালের ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু এ পর্যন্ত বন্যা মোকাবেলায় সরকারি যে ব্যবস্থাপনা দৃশ্যমান তা কেবল হতাশাজনকই নয়, বানভাসি নিরাশ্রয় মানুষের প্রতি এক নির্মম তামাশার নজিরও বটে। গণজাগরণ মঞ্চ ইতোমধ্যেই “বানভাসি মানুষের পাশে তারুণ্য; বাঁচাও মানুষ” শীর্ষক কর্মসূচি ঘোষণা করে ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা থেকে সংগৃহীত ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেয়া হবে। গত ১৭ আগস্ট ত্রাণ তৎপরতা জোরদারের দাবিতে আয়োজিত মানব বন্ধন কর্মসূচি শেষে পূর্ব ঘোষিত ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম চলাকালে অতর্কিতে একদল উশৃঙ্খল যুবক “বন্যা কই পাইছিস? দেশে কোনো বন্যা নেই, তোরাই বন্যার গল্প বানাইছিস” বলে লাঠিসোঁটা নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হন। যাদের মধ্যে গুরুতর আহত রিয়াজুল আলম ভূঁইয়া এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়নি। ''
ইমরান বলেন, পরবর্তীতে গত ১৮ আগস্ট ত্রাণ সংগ্রহের জন্য গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নিলে পুলিশ কর্মসূচি পালন করতে বাধা দেয়। পরবর্তিতে সংবাদ মাধ্যমে আমাদের ব্রিফিং শেষে ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এলে একই গোষ্ঠী পিছন থেকে মঞ্চের কর্মীদের ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। এতেও কমপক্ষে আট জন কর্মী আহত হন। কিন্তু পুলিশের নাকের ডগায় উপর্যুপরি এই হামলার পরও সরকার বা প্রশাসনের তরফে কোনো পদক্ষেপ না নেয়া নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করে এই ধারাবাহিক হামলার পেছনে সরকারের ইন্ধন ও যোগসাজশ রয়েছে। এটি সুষ্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, জনদুর্ভোগ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে পুরো ব্যাপারটিকে অপরাপর ইস্যুগুলোর মতোই ধামাচাপা দিতে ও গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই সরকার এসব হামলা-মামলা অব্যাহত রেখেছে। আমরা সুষ্পষ্ট ভাবে বলে দিতে চাই অব্যাহত এই হামলা-মামলার প্রেক্ষিতে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সরকার ও প্রশাসনকেই নিতে হবে। গণজাগরণ মঞ্চ সকল বাধা প্রতিরোধ করেই রাজপথে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।"
আপনার মন্তব্য