০৭ জুন, ২০১৫ ০৫:১১
৭ জুন বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস। বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য প্রতিবাদ ও আত্মত্যাগের সংগ্রামী একটি দিন।
লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে ১৯৪০ সালে যেমন ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণ ব্রিটিশ শোষকদের এদেশ থেকে তাড়ানোর জন্য ঐক্যমতে এসেছিল, ঠিক তেমনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৬’র এদিনে ঘোষিত ৬ দফাকে তখনকার পূর্ববাংলার জনগণ পাকিস্তানিদের বাংলা থেকে তাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিল।
পরবর্তীতে ৬ দফার প্রতিটি দফা বাংলার ঘরে-ঘরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়। বাংলার সর্বস্তরের জনগণ এ ৬টি দফা সম্পর্কে যখন সম্যক ধারণা অর্জন করলো, তখন এটি বাঙালির মুক্তির সনদে পরিণত হলো।
১৯৬৬ সাল। ৭ জুন ৬ দফা দেওয়ার আগে, ১৩ মে আওয়ামী লীগ আয়োজিত পল্টনের এক জনসভায় ৭ জুনে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে পুরো জুন মাসব্যাপী ৬ দফা প্রচারে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়। ৭ জুন তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল ব্যাভারেজের শ্রমিক সিলেটের মনু মিয়া গুলিতে প্রাণ হারান। এতে বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। তেজগাঁওয়ের ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। আজাদ এনামের অ্যালুমিনিয়াম কারখানার শ্রমিক আবুল হোসেন ইপিআর’র গুলিতে শহীদ হন।
একই দিন নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনের কাছে পুলিশের গুলিতে মারা যান ছয়জন শ্রমিক। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সন্ধ্যায় কারফিউ জারি করা হয়।
হাজার হাজার আন্দোলনকারী গ্রেফতার হন। বহু জায়গায় বিক্ষুব্ধ জনতা গ্রেফতার হওয়াদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ৬ দফা ভিত্তিক আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শহীদের রক্তে আন্দোলনের নতুন মাত্রা গড়ে ওঠে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের আন্দোলন।
১৯৬৬ থেকে ১৯৭০’র ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিচালিত ৬ দফা আন্দোলই ছিল সে সময়ে দেশের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কর্মতৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায় ৬ দফা আন্দোলনে নেতৃত্ব। ৬ দফার পক্ষে জনমত সংগঠিত করার জন্য সারাবাংলায় গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। সে সময় তাকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বারবার গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৬’র প্রথম কয়েক মাসে শেখ মুজিব আটবার গ্রেফতার হন।
৬ দফা দিবস বাঙালির স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক, অবিস্মরণীয় একদিন। যেসব আন্দোলন বাঙালির মনে স্বাধীনতার চেতনা ও স্পৃহাকে ক্রমাগত জাগিয়ে তুলেছিল ৬ দফা আন্দোলন তার মধ্যে অন্যতম। এরই ধারাবাহিকতায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে বাঙালির অবিস্মরণীয় বিজয়, একাত্তরের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
৬ দফা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। তাঁরা ৬ দফা দিবসকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবিস্মরণীয় দিন আখ্যায়িত করে সেদিনের শহীদসহ মুক্তিসংগ্রামের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারা।
এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে রয়েছে, আজ সূর্যোদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন।
দলের সাধারণ সম্পাদক,স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে ৬ দফা দিবসের কর্মসূচি পালনের জন্য দল, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মোনাজাত, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করবে।
আপনার মন্তব্য